৫০ বছরের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দেনা-পাওনার হিসেবে বড় অর্জন সমুদ্রসীমা ও স্থল সীমান্ত চুক্তি। তবে এখনও তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এগুনো যায়নি। বাণিজ্য বৈষম্যেও কমেনি দূরত্ব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতকে পাশে পাওয়ার বিষয়টিও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ের নানা সমীকরণ বিশ্লেষণ করে এটা স্পষ্ট যে, ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেই এখন হাঁটছে বাংলাদেশ।
সম্পর্কটা পুরনো, রক্ত আর দেনা পাওনার পরীক্ষায় পরীক্ষিত। জন্মলগ্ন থেকে বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন ঘটেছে নানা সময়। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের বোঝাপড়ায় সে সুর আবারও নতুন ভাবে বেজেছে পারষ্পরিক স্বার্থের দোতারায়।
ভারত সব সময় মুখে বলেছে প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সবার আগে তাদের কাছে গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ। কূটনীতিক পর্যায়ে সব সময় এ দাবিটা জানিয়ে আসছে দেশটির সরকার। আর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব জায়গায় নিজেদের সমর্থন জানিয়ে প্রমাণ রেখেছে প্রতিশ্রুতির।
শীর্ষ নেতৃত্বের বোঝাপড়ার মাধ্যমে বড় অর্জন সমুদ্রসীমা ও স্থল সীমান্ত চুক্তি। তবে সমুদ্রের তৃপ্তি এসে আটকে গেছে নদীতে। বিশেষ করে তিস্তা তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না দীর্ঘদিন ধরে। চুক্তির সব অক্ষর লিখিত, কিন্তু এক স্বাক্ষরের অভাবে জল গড়াচ্ছে না নদীতে। যেটা দুদেশের সম্পর্ককে দাঁড় করিয়ে রেখেছে নিঃসঙ্গ এক বালুচরে।
একই অবস্থা সীমান্তে। দীর্ঘ ৪ দশক ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশ অনেক অর্জনকেই রক্তাক্ত করেছে। দিনের পর দিন আশ্বাস আসছে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় যাওয়াতো দূরের কথা, প্রতিবছর গড়ে মারা যাচ্ছেন ৫০ জন। যুদ্ধহীন দিনে পৃথিবীর আর কোন সীমান্তে ঝরে না এত প্রাণ।
বাণিজ্যেও নানা বৈষম্য। ভারতকে দেয়া ট্রানশিপমেন্ট থেকে উত্তর পূর্ব ভারত লাভবান হচ্ছে। সে তুলনায় এখনো খুলেনি বাংলাদেশের জন্য বড় আকারের বাজার। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিপাকে পড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের যতটা সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলো, সে তুলনায় প্রাপ্তি ঘটেছে কম। সব কিছু বিবেচনায় তাই দেনা পাওনার হিসেবে এখন অনেক বেশি কৌশলী বাংলাদেশ। সুসম্পর্কের যে বাতাবরণ, তাতে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা, কথা ছিলো আরও বেশি পাওয়ার। ঢাকার অসন্তোষ টের পেয়েই করোনা মহামারির মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন দিল্লির পররাষ্ট্র সচিব। আপাতত কিছুটা গলেছে তাতে বরফ।
করোনাকালে এখন যৌথভাবে টিকা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত। এর মধ্যে ভারতের কাছ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৩ কোটি টিকা পাওয়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ছুটে চলা পদ্মা সেতুর বাংলাদেশ হাঁটছে ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকে। সেখানে সম্মানজনক একটি অবস্থানই প্রত্যাশা এ দেশের মানুষের।





