আফগানিস্তানে রিকসায় পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে এক নারী ডাক্তার নিহত হয়েছেন। এছাড়া অস্ত্রধারীদের হামলায় সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, পূর্ব আফগান শহরের জালালাবাদ শহরে বোমা বিস্ফোরণে একজন নারী ডাক্তার নিহত হয়েছে। ওই নারী যে রিকসায় যাচ্ছিলেন তাতে ম্যাগনেটিক বোমা ফিট করা ছিল। এক পর্যায়ে বোমা বিস্ফোরণ হলে তিনি নিহত হন।
আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, নিহত ডাক্তার প্রাদেশিক একটি হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে কাজ করতেন। অফিসে যাওয়ার পথে তার রিকসায় বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি নিহত হন। এই বিস্ফোরণে আরেকজন শিশু আহত হয়। প্রাদেশিক হাসপাতালের আরেকজন মুখপাত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, নানগরহার প্রদেশের প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুমা গুল হেমাত বলেন, রাতে বন্দুকধারীরা গুলি করে সাত বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তারা শরখ রোড জেলার একটি প্লাস্টার ফ্যাক্টরির শ্রমিক ছিলেন। হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত শ্রমিকরা সবাই আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু হাজরা সম্প্রদায়ের। তাদের অনেকেই রাজধানী কাবুল, মধ্য বামিয়ান, উত্তর বালাখ প্রদেশ থেকে কাজের জন্য আসেন।
এই হত্যাকাণ্ডের দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসআইএল শিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আফগানিস্তানে প্রায় তারা হাজরা সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ পরিচালন করছে।
তালেবান এসব হত্যকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। এসব ঘটনার জন্য তারা সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম হেরাত প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ৩৯ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করার জন্য ওই অভিযান পলিচালনা করা হয়। কিন্তু ওই মিলিশিয়া কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি পালিয়ে গেছেন বলে প্রাদেশিক গভর্নর কাতালি জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে সাংবাদিক, ধর্মীয় পন্ডিত, বিচারক ও অ্যাকটিভিস্টদের ওপর আক্রমণ বেড়েছে। আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য অনেকে আত্মগোপন করছেন কেউ আবার দেশ ত্যাগ করছেন।





