বগুড়ায় আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০

ঢাকা: বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিজয় দিবসের দলীয় কর্মসূচী পালনকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় পক্ষই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করে বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

জানা গেছে, সকাল ৭টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতা কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। একই সময় বগুড়া -৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা শহীদ বেদীতে আসেন। শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিএনপির নেতা কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষ করে বাসস্ট্যান্ডে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে আসেন এবং দলীয় স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় বিএনপির নেতা কর্মীরাও দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায় তা সংর্ঘষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ৩০টির বেশি মটোরসাইকেল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মদদে আওয়ামী লীগ নেতারা কোন প্রকার উস্কানী ছাড়াই বিএনপির উপর হামলা করে। আমি এমপি হিসেবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাইনি। বরং আমার দলের ৭ জন আহত হন। এ কারণে আমি ও আমার দল উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্জন করেছি।

নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপির লোকজন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে দলীয় নেতা কর্মীরা প্রতিহত করতে এগিয়ে যায়। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের ৩-৪ জন কর্মী আহত হন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রভাতনিউজ/এনজে