শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়েই শুরু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।ম্যাচের আগের দিন দুই দল পুরো দুই প্রান্তে। বাংলাদেশের ছিল স্রেফ ঐচ্ছিক অনুশীলন। পুরো দল নিয়ে আফগানিস্তানের অনুশীলন চলল লম্বা সময়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সামগ্রিক বাস্তবতায়ও দুই দলের অবস্থান বিপরীত। এই সংস্করণের ধারাপাত খুব ভালো করে জানা আফগানদের। বাংলাদেশ হিমশিম খেয়ে চলেছে আদর্শলিপি পড়তেই। এবার সাকিব আল হাসান ও শ্রীধরন শ্রীরামকে নিয়ে তাদের চেষ্টা নতুন কিছুর। আশা নতুন অধ্যায়ের সূচনার।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাকিব-শ্রীরাম যুগলবন্দির প্রথম পরীক্ষা বিপজ্জনক আফগানিস্তানের সঙ্গে। শক্তি-সামর্থ্যে এই সংস্করণে এমনিতেই ঢের এগিয়ে আফগানরা। তার ওপর আবার এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যেভাবে তারা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে, তাতে প্রমাদ গুনতেই পারে বাংলাদেশ।
অথচ গত দুই এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ। কিন্তু এবার আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে কী, গ্রুপ পর্ব পার হওয়া নিয়েই আছে বড় শঙ্কা। টি-টোয়েন্টিতে পারফরম্যান্সের অবস্থা যে বড় নাজুক। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে তাদের জয় স্রেফ ২টি। সবশেষ সিরিজে হারতে হয়েছে জিম্বাবুয়ের কাছেও। সেই হারের পর বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে নেতৃত্ব ও টিম ম্যানেজমেন্টে। অধিনায়কত্বে ফেরানো হয়েছে সাকিবকে। টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট করে আনা হয়েছে শ্রীরামকে।
শ্রীরাম-সাকিব জমানার শুরুতে হাওয়া বইছে দলের মানসিকতা বদলের। ভয়ডরহীন ও আগ্রাসী ক্রিকেটের ইঙ্গিত মিলছে তাদের কণ্ঠে। দলের সবার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে সবার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন গত কয়েক দিনে। ক্রিকেটারদের কথায় ও শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ের ছাপ মিলছে। সেই পরিবর্তনের লড়াইয়ে যোদ্ধারা খুব একটা বদলায়নি। তবে বদলে গেছে অনুশীলনের ধারা, বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের মানসিকতা। অনুশীলনে ব্যাটসম্যানদের দেখা গেছে বড় শট খেলতে।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে এই সংস্করণে মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম (১১২.৩১)। এখানে পরিবর্তন আনতে ব্যাটসম্যানদের দেওয়া হয়েছে বড় শট খেলার তাগিদ। মাঝের সময়টায় গতি ফেরাতে দলে ফেরানো হয়েছে সাব্বির রহমানকে। টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। তাদের পাঁচ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় তিনটিতে।
আত্মবিশ্বাসেও তারা ফুটছে টগবগ করে। বৈচিত্রময় ও বিপজ্জনক স্পিন আক্রমণ তাদের মূল শক্তি। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবিকে নিয়ে গড়া স্পিন আক্রমণ বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে যে কোনো ব্যাটিং লাইন আপের জন্য মাথাব্যথার কারণ। একটা সময় এই দলের খানিকটা ঘাটতি ছিল পেস বোলিংয়ে। এখন সেখানেও আছে ফজলহক ফারুকি ও নাভিন-উল-হকের মতো কার্যকর এক জুটি। দুজনের কেউই খুব গতিময় নয়, তবে দুজনেরই স্কিল দারুণ।





