ইংল্যান্ড বধে আর্জেন্টিনার রাজধানী এখন আনন্দ নগরী!

ফুটবলপাগল শহরের কথা উঠলে বুয়েন্স আয়ার্স ও রোজারিওর নাম বাদ দেওয়া যায় না। সেন্ট্রাল বনাম নিউয়েলসের ম্যাচ ঘিরে যে অনন্য আবেগ দেখা যায়, বুধবার আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচেও ঠিক তেমনই উন্মাদনা দেখা গেছে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্স ও লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্মভূমিতে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা প্রতিদিনের ঘটনা নয়, আর প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড—তখন এর গুরুত্ব আর্জেন্টাইনদের কাছে আরও অনেক বেশি। আর মেসি ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মতোই ফাইনালও এখন আর্জেন্টিনার। আটলান্টায় এনজো ফের্নান্দেজের দুর্দান্ত শট এবং লাওতারো মার্টিনেজের নাটকীয় হেডে স্কালোনির দল রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয়।

আর্জেন্টিনার জয়টা ছিল ২-১ ব্যবধানে, ঠিক ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের মতো। ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসি করেছিলেন দুটি অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সুযোগ পেলেন।

মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথ শেষ বাঁশি বাজানোর পর আর্জেন্টাইনদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এরপরও আগের মতোই তারা ছুটে যায় ফ্ল্যাগ মনুমেন্টে, রোজারিওর ঐতিহাসিক পর্যটন স্থানে—যেখানে মেসি ও তার সতীর্থদের আরেকটি জয়ের উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই স্থান।

সেখানে যাওয়ার পথে গাড়ির হর্নের ছন্দময় শব্দ যেন এক প্রথায় পরিণত হয়েছিল, যদিও কারও কাছে সেটি বাধ্যবাধকতা মনে হয়নি। রাস্তায় আর্জেন্টিনার পতাকা বা জার্সি পরা কাউকে দেখলে মনে হচ্ছিল যেন কোনো আপন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেছে। কে সেন্ট্রালের সমর্থক, কে নিউয়েলসের; কে বোকা জুনিয়র্স, কে রিভার প্লেটের—এসবের কোনো গুরুত্ব ছিল না। সবার কাছে একটাই পরিচয়—আর্জেন্টিনা।

বুধবার ছিল কর্মদিবস, আর তার পরের বৃহস্পতিবারেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেছে। তবুও রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শহরের প্রতিটি চত্বর ও অলিগলি ছিল মানুষের ভিড়ে পূর্ণ। সবাই অপেক্ষা করছে সেই মহা ফাইনালের জন্য, যা রোববার নিউইয়র্কে বিকেল ৪টায় শুরু হবে। তবে ম্যাচটি শুধু মাঠে থাকা ১১ জনের নয়—৪ কোটিরও বেশি আর্জেন্টাইন যেন স্পেনের বিপক্ষে সেই ফাইনালে খেলবে।

সূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস