‘জনপ্রতিনিধি হয়েছি পড়াশোনা জানি না। এলাকার লোকজনকে সেবা দিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে সবসময় লজ্জাবোধ করতাম’ তাই সবার অগোচরেই ভর্তি হয়েছিলাম। পাশ করেছি সম্মানের সাথেই।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আব্দুল মমিন। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের ৪৫ বছর বয়সী এক ইউপি সদস্য। জেলার কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত সদস্য তিনি। টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ের পরে এবার জয় পেলেন পরীক্ষাতেও।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর ইউপি সদস্য আব্দুল মমিনের পাস করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।
আব্দুল মমিন জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছেন। তবে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন বিষয়টি জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ইউপি সদস্য আব্দুল মমিন বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়েছি পড়াশোনা জানি না। এলাকার লোকজনকে সেবা দিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে সবসময় লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আল্লাহর রহমতে, সকলের দোয়ায় আমি জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’ আমি পাস করেছি এটাই বড় কথা। আমার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করব। সেই ইচ্ছা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। এখন এইচএসসিতে ভর্তি হব এবং ডিগ্রি পাশ করারও ইচ্ছা আছে।
আব্দুল মমিন আরও বলেন, বয়স কোনও বিষয় না। আমি এই বয়সে নিজেও লেখাপড়া করছি, পড়াশোনা করতে অন্যদেরকেও উৎসাহিত করি।
শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইউপি সদস্য টানা তিনবার বিজয়ী হয়ে এখন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন বিষয়টি জানা ছিল না। আজকে শুনলাম তিনি রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীর একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছেন। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই।





