প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ দিল বিএনপিপন্থীরা

গতকালের হট্টগোল, ধাওয়া পাল্ট ধাওয়া ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শেষ দিনের ভোটগ্রহণ চলছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

তবে বিএনপিপন্থীরা ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির কাছে আদালত চলাকালীন গতকালের ঘটনা তুলে ধরেছেন। এরপর প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের বিরতির সময় তাদের সঙ্গে খাস কামরায় দেখা করেন। এ সময় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির কাছে গতকালের (১৫ মার্চ) ঘটনা তুলে ধরেছেন। 

সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতির খাস কামরা থেকে বেরিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচার না হওয়া পর‌্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা বলেছি, নির‌্যাতনের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। না হলে জাতির কাছে সুপ্রিমকোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত কাগজ পত্র প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের আট বিচারপতিকে দিয়েছি। আমরা বলেছি সাব কমিটির প্রধান যদি পদত্যাগ করেই থাকেন তাহলে নতুন করে সাব কমিটি গঠনের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নাই। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলবেন। 

এর আগে প্রথম দিনের ভোট চলাকালে সাদা (সরকার সমর্থক) ও নীল (বিএনপি সমর্থক) দলের দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হাতাহাতি, হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবী, সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।  

গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতিতে ভোট শুরু হয় দুপুর পৌনে ১২টায়। প্রথম দিনে দুই হাজার ২১৭টি ভোট পড়ে। বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা ভোট দেননি।  

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০২৩-২৪ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের ভোট হবে দুই দিন (বুধবার ও বৃহস্পতিবার)। দুই দিনই সকাল ১০টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের কথা। ভোটগ্রহণের জন্য আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

তবে বুধবার সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণের সময় বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকেন। নতুন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তারা। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রেই বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এরপর আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীরাও ভোটকেন্দ্রে ঢুকলে শুরু হয় হট্টগোল, এক পর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। এ সময় শতাধিক পুলিশ ভোটকেন্দ্রে ঢুকে লাঠিপেটা শুরু করে। ভোটকেন্দ্রের বাইরেও আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়।  

এ সময় পুলিশের লাঠিপেটার সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় পুলিশ। সাংবাদিকদের এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি আশুতোষ সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঞার নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বিষয়টি প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে জানান। তখন প্রধান বিচারপতি লিখিত অভিযোগ নিয়ে যেতে বললে পরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগের পর প্রধান বিচারপতি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এলআরএফ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ভোটগ্রহণের মধ্যে বুধবার বিকেল সোয়া ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সেখান থেকে মিছিল করে এসে নির্বাচনী প্যান্ডেল, আইনজীবীদের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন তারা। এক পর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বিকেল প্রায় সোয়া ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে শুরু হয়ে ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।