ভারতের মুম্বাইসহ কয়েক প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লা মেট্রোস্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে। এ সময় আশপাশের তিন থেকে চারটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনার পর দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, জয়পুর এবং উত্তরাখণ্ডে উচ্চ সতর্কতা জারি করা করা হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। আহতরা সবাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিস্ফোরণের পর আশপাশের কয়েকটি গাড়ি এবং দোকানেও আগুন ধরে যায়। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ট্রাক আগুন নেভানোর কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে সরকারি সূত্র।

কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল— সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য দেয়নি দিল্লি পুলিশ।

এদিকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মানুষের দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি মানুষের ছিন্ন-ভিন্ন দেহের অংশ আকাশে উড়ে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখেছেন। তার চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ এত প্রচণ্ড ছিল যে, তার কান কয়েক মিনিট ধরে ব্যথা করছিল। তিনি বলেন, একজনের শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় একটি হাত পড়ে থাকতে দেখেছি। বিস্ফোরণ এত ভয়ঙ্কর ছিল যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের দেয়াল, জানালা ও দরজা কেঁপে উঠেছে।

বিস্ফোরণ স্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের কয়েকটি গাড়ি একেবারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাস্তায় মানুষকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগও দেখা গেছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে। এছাড়া পুরোনো দিল্লিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ বলেছে, লাল কেল্লার কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের পরপরই আহতদের উদ্ধার করে পাশের লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ (এলএনজেপি) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আটজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।