ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)–এর নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ঘিরে সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি তরুণদের সমর্থন ফেরানোর কৌশল নিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
শিক্ষা খাতে অনিয়ম, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেন।
আন্দোলন দমনে বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়। তবে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে কয়েকটি রাজ্য পরে এসব পদক্ষেপ শিথিল করে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনের সময় আটক হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিক্ষার্থীকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের কথাও জানিয়েছে আদালত।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করেছে। বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের দিকে অস্ত্র তাকানোর অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম নজরদারির অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন তরুণ কর্মী দাবি করেছেন, সরকারের সমালোচনা করায় তাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে করা কয়েকটি পোস্টের বিষয়ে মামলা করেছে। অভিযোগ, এসব পোস্টে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন সিজেপি বলছে, সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকদের অধিকার। তারা অভিযোগ করেছে, অনলাইন বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট বিক্ষোভ চলাকালের সব ভিডিও, যেমন ড্রোন ফুটেজ, বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপি সরকার তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টাও করছে। দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের উপযোগী ভাষা, জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের বিষয় ব্যবহার করে প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করছে।
ভারতে ২৯ বছরের নিচের মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ। তাই তরুণ ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ’ আন্দোলন শুধু শিক্ষা খাতের অসন্তোষ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও সরকারের সঙ্গে তাদের দূরত্বের একটি বড় প্রতিফলন। এখন সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।





