জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ‘পক্ষপাতদুষ্টতা’ রয়েছে বলে দাবি করে মন্তব্য করেছেন যে এই সরকার দিয়ে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার এখন আর নিরপেক্ষ সরকার নয় এবং নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশের জন্য আরও বেশি বিপর্যয় ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আন্দোলনরত ৮ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের অভিযোগ করেন, আরেকটি পরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন শুরু হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারটি জনগণ ও তাদের মনে আশঙ্কা তৈরি করছে এবং সরকারের আচরণ তাদের এসব কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে।
তিনি মনে করেন, এই সরকার বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, ইচ্ছাকৃত হোক অথবা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হোক—তারা একটি দলের ফাঁদে পা দিয়েছে এবং সংস্কারকে প্রায় গুরুত্বহীন করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে এই দলটির প্রতি নানাভাবে আনুগত্য ও দুর্বলতা প্রকাশ শুরু হয়েছিল।
আব্দুল্লাহ তাহেরের মতে, বিভিন্ন সময়ে সরকারের আচরণে একটি দলের দাবিকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে এবং আজকে জাতির কাছে এটা প্রতীয়মান যে, সরকার একটি দলের প্রতি অনুগত এবং একটি দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য যেনতেন নির্বাচনের প্রচেষ্টায় আছে।
জামায়াত নেতা আরও দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে তিনজন উপদেষ্টা, যারা তাকে ভুল তথ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন যেন না হয় সেই চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সুকৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশকে সুষ্ঠু নির্বাচনের উল্টো দিকে নিয়ে যেতে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হলেও সরকার সেটার ব্যাপারে মনোযোগী নয়। বরং সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সহযোগিতায় একটি বিশেষ দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে দলীয়করণ করার চেষ্টা চলছে। একটি বিশেষ দলের লোকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং প্রশাসনে যারা ভালো লোক ছিল, তাদের কোনো দলের ট্যাগ লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আসন্ন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ৮ দলের নেতারা অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে ‘একটি ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তাহেরের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো সেখানেও একটি দল হারবে বলেই একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ৮ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের আলাদা আলাদা তারিখ ঘোষণা, বিভ্রান্তকারী সেই তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগ করা।
ডা. তাহের সবশেষে স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, তারা ৮ দল আগামী রোজার আগেই জাতীয় নির্বাচন চান, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চান এবং এজন্য তারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





