ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু কেনাবেচা নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পশু বাজারে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার অনেক মুসলিম ক্রেতা গরু কেনা থেকে বিরত থাকায় বিপাকে পড়েছেন হিন্দু ও মুসলিম উভয় খামারিরা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ কয়েকটি এলাকায় বহু খামারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু পালন করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে গরু বিক্রির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্ত ও আইনি জটিলতার কারণে বাজারে ক্রেতা কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন খামারি জানান, বছরের পর বছর কোরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করেই তারা গরু লালন-পালন করে আসছেন। এবার গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান চান।
অন্যদিকে মুসলিম খামারিরাও বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পালন করা গবাদিপশু বিক্রি না করতে পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাদের দাবি, সরকার যদি কোরবানিতে বিধিনিষেধ দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।
ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ খামারিদের ওপর পড়েছে। এতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় কোরবানির গরু বিক্রি ও জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই অংশ নেন।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। দলটির নেতারা দাবি করেন, এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।





