লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা, তিনজন আটক

ইস্ট লন্ডন মসজিদ–সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের আয়োজনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এই সভাকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৫ জুন) পূর্ব লন্ডনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের (বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা–কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন সভা শুরুর আগে থেকে। একইদিন বিকেল থেকে রেস্তোরাঁর সামনে দুই পক্ষের সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপি’র সমর্থক ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং সেখানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় সভাস্থল ত্যাগ করে।

বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে অন্তত তিনজনকে আটক করতে দেখা গেছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন। হাতকড়া পরিয়ে তাকে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

এর আগে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইস্ট লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাঁটতে যান হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন অনেকে। একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পর এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরেক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। তবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের ছাত্র ও যুবসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারে।