দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফিরে দুর্দান্ত সূচনা করেছে নরওয়ে। বস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্লিং হালান্ডের দল। এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার হালান্ড, যিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়া নরওয়ে শুরু থেকেই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাঠে নামে। তবে ম্যাচের শুরুতে ইরাকই বেশি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে তারা একাধিকবার নরওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে। আলি আল-হামাদির একটি প্রচেষ্টা বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা পায় নরওয়ে।
প্রথমার্ধের প্রায় আধাঘণ্টা পর ম্যাচে এগিয়ে যায় নরওয়ে। আন্তোনিও নুসার তৈরি করা আক্রমণ থেকে ডেভিড উলফের বাড়ানো বল পেয়ে ২৯ মিনিটে সহজ সুযোগ কাজে লাগান আর্লিং হালান্ড। তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ইরাক। নরওয়ের ডান দিকের রক্ষণে দুর্বলতা খুঁজে বের করে বারবার আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। এর ফলও পেয়ে যায় ৩৯ মিনিটে, যখন আয়মেন হুসেইন দুর্দান্ত এক হেডে সমতায় ফেরান দলকে।
সমতার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ইরাকের। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুল পাস মাঝপথে কেটে নেন হালান্ড। এরপর ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক সমতায় ফেরার জন্য বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। আয়মেন হুসেইনের আরেকটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর হুসেইন আলীর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে, ধীরে ধীরে নিজেদের খেলার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় নরওয়ে।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে নরওয়ের ব্যবধান বাড়ান লিও ওস্টিগার্ড। এই গোলের পর কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউরোপের দলটি। শেষ দিকে হালান্ড হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও ইরাকি গোলরক্ষক জালাল হাসানের দুর্দান্ত সেভে তা সম্ভব হয়নি।
তবে যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল পায় নরওয়ে। বক্সের ভেতরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন আয়মেন হুসেইন। ফলে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
স্কোরলাইন একপেশে হলেও পুরো ম্যাচে ইরাক লড়াই করেছে সমানতালে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং রক্ষণে ভুলের কারণেই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে, নরওয়ে বড় জয় পেলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
এই জয়ের গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল, আর ২৭ জুন মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। কঠিন দুটি ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের এই স্মরণীয় জয়!





