তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের এ সপ্তাহের শুরুতে মস্কো ও কাজান সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন পশ্চিমা বিশ্বের বড় একটি অংশ নিজেদের ধ্বংসাত্মক আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় সব ধরনের সংলাপ ত্যাগ করেছে এবং এখনও দেশটিকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার বিভ্রম আঁকড়ে ধরে আছে। এই সফর স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে আঙ্কারা সেই পথ অনুসরণ করছে না।
ইউক্রেন সংঘাত এখনও বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু। কৃষ্ণসাগর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলের একটিতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের বহু পুরোনো পথ হয় বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তুরস্কের যোগাযোগের পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত একগুঁয়েমি নয়, বরং বাস্তববোধের পরিচয়। অনেক দেশ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার কথা বলে, কিন্তু খুব কম দেশই এমন মানুষের সঙ্গে একই টেবিলে বসে থাকতে রাজি, যাদের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে। আর এই কারণেই ফিদানের সফরটি কেবল সংবাদ সংস্থার একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনের বিষয় নয়, বরং গভীরভাবে বিশ্লেষণের যোগ্য।
এই সফরের দুটি প্রধান অধ্যায় ছিল—একটি মস্কোতে এবং অন্যটি কাজানে। দুটি অধ্যায় মিলেই সফরটিকে বাস্তব অর্থ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে দেখার মতো, কারণ উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছে।
মস্কোতে ফিদান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি। বৈঠক শেষে কেউই এমন ভান করেননি যে মতভেদ দূর হয়ে গেছে। তবে আলোচনার পরিবেশ ছিল পেশাদার ও বাস্তবমুখী, সংঘাতমূলক নয়—এটিই নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
বর্তমানে রাশিয়ার প্রতি পশ্চিমা কূটনীতির বড় অংশ চাপ, হুমকি এবং জনসম্মুখে সমালোচনার ওপর নির্ভরশীল। অনেক বক্তব্যই মূলত নিজেদের দেশের জনগণের জন্য, আলোচনার টেবিলে বসা পক্ষের জন্য নয়। তুরস্ক ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। আঙ্কারা পরিস্থিতির জটিলতা অস্বীকার করে না, তবে এটাও বিশ্বাস করে না যে রাশিয়াকে আলোচনার বাইরে রেখে কৃষ্ণসাগর বা ককেশাস অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
লাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান আবারও বলেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন যখনই চাইবে, তুরস্ক নতুন দফা শান্তি আলোচনা আয়োজন করতে প্রস্তুত। তিনি এটিকে কোনো বড় অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করেননি, আর এই সংযমই বক্তব্যটিকে বিশ্বাসযোগ্য করেছে। কেউ অলৌকিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং প্রস্তাবটি ছিল সহজ—দুই পক্ষ প্রস্তুত হলে তাদের জন্য একটি টেবিল ও একটি কক্ষ সবসময় প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে মস্কোও তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাশিয়া বলেছে, তারা কূটনীতি থেকে সরে যাচ্ছে না, তবে এমন কোনো সমঝোতা মেনে নেবে না যা কেবল সাময়িক বা প্রতীকী সমাধান হবে। লাভরভ তুরস্কের প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও স্পষ্ট করেছেন যে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মূল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হবে।
এখানেই তুরস্কের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার গুরুত্ব। আঙ্কারা রাশিয়ার সঙ্গে উপদেশমূলক ভঙ্গিতে কথা বলে না বা তাকে উপেক্ষা করার মতো কোনো গৌণ শক্তি মনে করে না। বরং চলমান সংকটের অন্যতম প্রধান পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বিকল্প কৌশলের তুলনায় কম আদর্শিক এবং বেশি কার্যকর।
কৃষ্ণসাগর নিরাপত্তার বিষয়টিও সরাসরি আলোচনায় উঠে আসে। ফিদান এমন কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন যা অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করতে পারে বা তুরস্কের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে পারে। রাশিয়ার জন্য কৃষ্ণসাগর একটি কৌশলগত জীবনরেখা—উষ্ণ সমুদ্রপথে প্রবেশের সুযোগ এবং নৌ-শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র। তুরস্কের জন্য এটি তার একেবারে দোরগোড়ার জলসীমা, যা বাণিজ্যিক নৌপথ, জ্বালানি রুট এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
একটি তেলবাহী জাহাজের দুর্ঘটনা বা সামান্য নৌ-সংঘর্ষও শুধু সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত বীমা বাজার, শস্য পরিবহন এবং জ্বালানি চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। মস্কোতে মুখোমুখি আলোচনায় এই বিষয়গুলো তোলা দেখায় যে আঙ্কারার নীতি বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে, কূটনৈতিক নাটকের ওপর নয়। তুরস্কের উপলব্ধি হলো—কৃষ্ণসাগরে স্থিতিশীলতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নয়, বরং রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।
মস্কো সফরে ফিদান শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেননি। তিনি আন্তর্জাতিক পরিবহন সহযোগিতা বিষয়ক ক্রেমলিনের প্রতিনিধি ইগর লেভিতিন, প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেডিনস্কি এবং নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরিবহন, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক কূটনীতি—এসব ক্ষেত্রেই রাশিয়া-তুরস্ক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। ফিদানের সঙ্গে যেসব উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে, তা দেখায় মস্কো এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে এবং তুরস্ককে কীভাবে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি রাশিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই অংশটি সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও তুরস্কের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বিবৃতির ওপর নির্ভর করে না। এটি বাণিজ্য, জ্বালানি চুক্তি, পর্যটন, নির্মাণ প্রকল্প, কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বহু বছর ধরে তুর্কি নির্মাণ কোম্পানিগুলো রাশিয়ায় বিমানবন্দর ও স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে। রুশ পর্যটকেরা এখনও প্রতি গ্রীষ্মে তুরস্কের সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্টগুলোতে ভিড় করেন। জ্বালানি পাইপলাইন রাজনৈতিক বিবৃতির তোয়াক্কা করে না। বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সচল রয়েছে, যা রাজনৈতিক সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।
তবে সফরের প্রকৃত রাজনৈতিক গুরুত্ব ফুটে ওঠে কাজানে। মস্কো সফর শেষে ফিদান রাশিয়া-আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কাজানে যান।
এই স্থান নির্বাচন নিজেই একটি বার্তা বহন করে। রাশিয়া এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের আতিথ্য দিচ্ছিল এবং দেখাতে চাইছিল যে তার কূটনৈতিক কার্যক্রম পশ্চিমা চাপ দ্বারা নির্ধারিত হয় না। বিশ্বের একটি বড় অংশ এখনও মস্কোর সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী, যদিও কিছু পশ্চিমা রাজধানী তা অস্বীকার করতে চায়।
এই প্রেক্ষাপটে একজন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেখানে উপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—তুরস্ক এখনও রাশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকেন্দ্র হিসেবে দেখে এবং তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী, তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন বা ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে না।
ফিদান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন, এবং এই ব্যক্তিগত স্পর্শটি যতটা সাধারণ মনে হতে পারে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এরদোয়ান ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এই সম্পর্ক বহু বছর ধরে পর্দার আড়ালে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা পালন করেছে। সিরিয়া, লিবিয়া কিংবা নাগারনো-কারাবাখ নিয়ে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও এটি সংকট প্রশমিত করেছে এবং সহযোগিতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। এই সম্পর্ক একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা, বিভিন্ন সংঘাতক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থান গ্রহণ এবং পারস্পরিক অসন্তোষের বহু অধ্যায় অতিক্রম করেছে। এর প্রধান কারণ সম্ভবত এই যে, দুই নেতাই বোঝেন—সংকটকে দীর্ঘায়িত হতে দেওয়ার চেয়ে সরাসরি কথা বলা অনেক বেশি কার্যকর।
পুতিনও একইভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নশীল এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি এরদোয়ানের ব্যক্তিগত ভূমিকারও প্রশংসা করেন। মস্কোর পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত—রাশিয়া তুরস্ককে এমন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখে, যা নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং বাইরের চাপের মধ্যেও সংলাপ বজায় রাখতে পারে; এমন কোনো দেশ হিসেবে নয়, যা কেবল তার মিত্রদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে।
সবকিছু মিলিয়ে মস্কো ও কাজান সফর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে। একদিকে ছিল কর্মপর্যায়ের বাস্তব আলোচনা, অন্যদিকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই একই বার্তা স্পষ্ট ছিল—আঙ্কারা এই যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চায় এবং এখনও রাশিয়াকে যে কোনো গুরুতর আঞ্চলিক সমাধানের কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
যদি কেউ শুধু শিরোনাম দেখে বিচার করে, তবে এই ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপের গুরুত্ব সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে অগ্রগতি আনতে এমন ধৈর্যশীল ও বহুস্তরীয় প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর, এমনকি সফরের শেষে কোনো নাটকীয় ঘোষণা না এলেও।
বৃহত্তর চিত্র আরও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইউরোপীয়, কৃষ্ণসাগরীয় কিংবা ইউরেশীয় নিরাপত্তা কাঠামো থেকে রাশিয়াকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার ধারণা গত কয়েক বছরে যতবারই প্রচার করা হোক না কেন, বাস্তবে তা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
ইউক্রেন, সিরিয়া, দক্ষিণ ককেশাস, জ্বালানি, খাদ্যনিরাপত্তা কিংবা পরিবহন করিডোর—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর কেন্দ্রেই কোনো না কোনোভাবে রাশিয়া রয়েছে। তুরস্ক সম্ভবত এই বাস্তবতা অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে। এ কারণেই আঙ্কারা নাটো-এর সদস্য হয়েও নিজের আঞ্চলিক স্বার্থকে জোটের কঠোর শৃঙ্খলার কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করেনি এবং কূটনীতিকে সমর্থন করলেও তাকে একতরফা চাপ প্রয়োগের সমার্থক মনে করে না।
এতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার একটি সৎ মূল্যায়ন রয়েছে। রাশিয়া ও তুরস্ক সব বিষয়ে একমত নয়। তারা ভিন্ন ভিন্ন জোট, অগ্রাধিকার ও সংবেদনশীলতার প্রতিনিধিত্ব করে। এমন বহু ক্ষেত্র আছে যেখানে তাদের স্বার্থ সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তারা শিখেছে যে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে সংলাপ অনেক বেশি কার্যকর। ভূগোল, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কৃষ্ণসাগর—সবকিছুই এই শিক্ষা ভুলে যাওয়া কঠিন করে তোলে।
এক সপ্তাহে সিরিয়া নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু পরের সপ্তাহেই শস্য রপ্তানি নিয়ে একই টেবিলে বসার প্রয়োজন হতে পারে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে সবার কাজই আরও কঠিন হয়ে যায়।
এই সফর থেকে কোনো চমকপ্রদ ঘোষণা আসেনি, এবং সেটাই স্বাভাবিক ছিল। যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, বন্দি বিনিময় নিয়ে কোনো অপ্রত্যাশিত অগ্রগতিও দেখা যায়নি। এটি সংবাদ শিরোনাম তৈরির জন্য পরিকল্পিত কোনো ঘটনা ছিল না।
তবে সফরটি এমন একটি যোগাযোগের পথকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা দিন দিন বিরল হয়ে উঠছে—মস্কো এবং পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে অবস্থান করেও রাশিয়ার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা একটি দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।
এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কেউ যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে তাকে মস্কোর সঙ্গে কথা বলতেই হবে—সে বিষয়টি পছন্দ করুক বা না-ই করুক। সংঘাতপূর্ণ এই সময়ে সংলাপের সেই দরজা খোলা রাখাই প্রকৃত কূটনীতির সূচনা, যা সাধারণত বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই, একেকটি কর্মভিত্তিক সফরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
সূত্র: আরটি





