এবার পুঁচকে কুরাসাওয়ের গোলরক্ষকের ইতিহাস, ১৫ সেভে বিশ্বরেকর্ড

মাত্র ছয় দিন আগেও বিশ্বকাপ অভিষেকে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল কুরাসাও। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত উপহার দিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি।

কানসাস সিটিতে শনিবার অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে কুরাসাও। আর এই ফলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশটি।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের নায়ক গোলরক্ষক এলোয় রুম। ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলার পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে হতাশ করে দেন।

৯০ মিনিটে মোট ১৫টি সেভ করে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ডও গড়েছেন রুম। এর আগে এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের। ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়সহ ১৬টি সেভ করেছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র নির্ধারিত ৯০ মিনিটে রুমের ১৫ সেভ বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য এক কীর্তি।

ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই নিজের অসাধারণ রাতের ইঙ্গিত দেন কুরাসাও গোলরক্ষক। একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ইকুয়েডর অধিনায়ক এননার ভালেন্সিয়া। কিন্তু দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাত দিয়ে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন রুম।

এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে বারবার আক্রমণে উঠলেও কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ও রুমের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভাঙতে পারেনি ইকুয়েডর।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রুম বলেন, “এখনও সবকিছু পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছি না। ম্যাচটি ছিল আবেগে ভরা। জানতাম কঠিন লড়াই হবে। প্রথম সেভটি আমাকে এবং পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। এভাবে একটি পয়েন্ট অর্জন করা কুরাসাওয়ের জন্য অসাধারণ ব্যাপার।”

বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরে অংশ নেওয়া ইকুয়েডর ম্যাচে পুরো আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের দেখা পায়নি। ২৬টি শট নেওয়া দক্ষিণ আমেরিকার দলটির বিপরীতে কুরাসাওয়ের শট ছিল মাত্র ১০টি। ম্যাচের শেষ দিকে অ্যাঞ্জেলো প্রিসিয়াদোর দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

গ্যালারিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইকুয়েডর সমর্থকেরা পুরো ম্যাচজুড়ে “সি সে পুয়েদে” (হ্যাঁ, আমরা পারব) স্লোগান দিলেও শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে।

তিনি বলেন, “আমরা গোল করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হইনি। সমর্থকদের আনন্দ দিতে না পারাটা হতাশাজনক। তবে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। এই হতাশা থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোতে হবে।”

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়েছে জার্মানির। একই সঙ্গে ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের তথাকথিত ছোট দলগুলো এখন বড় দলগুলোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।