মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা বড্ড বোকামি : লা ফুয়েন্তে

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাঁ পায়ের জাদু দেখানোয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে পরবর্তী লিওনেল মেসি বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন অনেকে। তবে ইয়ামালকে লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা করাকে একটি বড় ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে এই বার্সেলোনা উইঙ্গার শুরুর একাদশে থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

‘এইচ’ গ্রুপ থেকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে স্পেন। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে আতলান্তায় সৌদি আরবের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন। যেখানে প্রথম ম্যাচে পেশির চোটের কারণে কেবল ম্যাচের শেষভাগে সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠে নামতে পেরেছিলেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল।

চলতি সপ্তাহে ইয়ামালকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের তুমুল আলোচনা ও স্পটলাইটের বিষয়ে কোচ দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামালকে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা করাটা মস্ত বড় ভুল হবে। কারণ তার বয়স এখন মাত্র ১৮ বছর। সে এখনো নিজেকে গড়ার ও পরিপক্ক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই তাকে তার নিজের গতিতে চলতে দেওয়া উচিত।

তবে ইয়ামালের ভেতরের সহজাত প্রতিভাকে স্বীকার করে স্পেনের কোচ বলেন, এই ধরনের ফুটবলাররা একটু ভিন্ন ধাঁচের হয়। তারা সালভাদর দালি কিংবা মাইকেঞ্জেলোর মতো জিনিয়াস… যাদের কাছে যা স্বাভাবিক মনে হয় আমাদের কাছে তা ব্যতিক্রমী।

গত এপ্রিলে পেশির চোটে পড়ার পর থেকে ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি। চলতি সপ্তাহে ইয়ামাল নিজেও স্বীকার করেছেন যে, পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো অবস্থায় তিনি এখনো নেই। যার কারণে সৌদির বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামাল প্রথমার্ধ থেকেই মাঠে নামবেন কিনা তা স্পষ্ট না করে কোচ বলেন, ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইয়ামাল হয়তো ৫৫, ৫৮ কিংবা ৬৩ মিনিট খেলতে পারেন। দলের জন্য কোনটি সবচেয়ে বেশি উপকারী ও ইয়ামালের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি নিরাপদ তা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইয়ামালকে নিয়ে অতিরিক্ত মিডিয়া হাইপ দলের বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেনের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের সাথে পয়েন্ট হারানোর পর স্প্যানিশ মিডিয়ায় কড়া সমালোচনা হলেও দলে কোনো আতঙ্ক নেই। বরং এই সমালোচনাই খেলোয়াড়দের আরও অনুপ্রাণিত করেছে। প্রথম ম্যাচের ফলে দল কিছুটা মর্মাহত হলেও ছেলেরা নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছে। যার কারণে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি একেবারেই ভিন্ন হবে।