বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে কুরাসাও। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গোলরক্ষক এলোয় রুম। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠা এই অভিজ্ঞ গোলকিপার ম্যাচ শেষে মজা করেই বলেছেন, তার দেশের মানুষ এখন তার একটি মূর্তি বানাতে পারে।
ক্যানসাস সিটির ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে কুরাসাও। পুরো ম্যাচে ১৫টি সেভ করেছেন ৩৭ বছর বয়সী রুম, যা ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের রেকর্ড সংরক্ষণের ইতিহাসে ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এমন ফল কুরাসাওয়ের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দেশটি এই ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের স্বাদ পেল।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রুম বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য সবকিছু। অনুভূতিটা এমন, যেন আমরা ম্যাচ জিতেছি। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম পয়েন্ট, এটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোথা থেকে উঠে এসেছি, সেটি চিন্তা করলে এই অর্জন অবিশ্বাস্য মনে হয়। আজ আমরা দেখিয়েছি, কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’
রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন কুরাসাও গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘জানতাম আমাকে অনেক সেভ করতে হয়েছে। পরে শুনেছি এটি দীর্ঘদিনের একটি রেকর্ড। এমন একটি অর্জনের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।’
তবে ড্র করেও কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে তার। রুমের মতে, ‘আমাদের গোল করার সুযোগও ছিল। তাই কিছুটা আফসোস আছে। তবে এই ফল আমাদের কাছে জয়ের মতোই।’
ভবিষ্যতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাস্যরসও করে তিনি বলেন, ‘৪০ বছর পরও আমি এই ম্যাচের কথা মনে রাখব। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমার মনে হয়, এখন কুরাসাওয়ে আমার একটা মূর্তি হওয়া উচিত।’
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিলেন রুম। তৃতীয় মিনিটে ইকুয়েডর অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়ার শট প্রতিহত করে আত্মবিশ্বাস পান তিনি। এরপর গনসালো প্লাতা, কেভিন রদ্রিগেস ও ভ্যালেন্সিয়ার আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।
অন্যদিকে কুরাসাওও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। তাহিথ চং, জুনিনিয়ো বাকুনা ও লিয়ান্দ্রো বাকুনা গোলের সম্ভাবনা জাগালেও সফল হতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত রুমের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যই নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক ড্র।
দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘ই’ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও বাঁচিয়ে রেখেছে কুরাসাও। শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করবে দলটি।
এদিকে রুমের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ২৪ হাজারে পৌঁছে যায়।
সূত্র: ইএসপিএন





