নারীদের শরীর যেন আতশকাচের নিচে: মাধুরী দীক্ষিত


বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত আবারও আলোচনায়, তবে এবার কোনো সিনেমা বা পারফরম্যান্স নয় বরং সমাজের একটি পুরনো অভ্যাস নিয়ে তার খোলামেলা মন্তব্যে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি নারীদের শরীর ও ওজন নিয়ে অবিরাম মন্তব্য করার সংস্কৃতিকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন।

মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে মাধুরী বলেন, “আমাকে সেই সময়ে লোকে বলত, এ ভীষণ রোগা। একে কিছু খেতে দাও। তখন ছিলাম একটু বেশিই রোগা। ওজন বেড়ে যাওয়ার পরে বলা শুরু হল, কেন এত ওজন বেড়েছে? আসলে ভারতে প্রথম কারও সঙ্গে দেখা হলেই বলবে, দেখো, কেমন মোটা হয়েছে!’ অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই তাকে এমন ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তার ভাষায়, যেন মানুষের শরীরই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।”

তিনি আরও জানান, এই ধরনের মন্তব্য নারীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। “ওজন নিয়ে নারীদের যেভাবে আতশকাচের নিচে রেখে বিচার করা হয়, তা সত্যিই অস্বস্তিকর,” বলেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন, এসব কটাক্ষকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজের দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মাধুরীর মতে, মানুষের শরীর নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা পরিবর্তন হওয়া দরকার। প্রত্যেকের শরীর ও গঠন আলাদা। তাই তুলনা বা বিচার করা অনুচিত।

১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন মাধুরী। শুরুটা সহজ ছিল না। তবে ১৯৮৮ সালের ‘তেজাব’ ছবির “এক দো তিন” গান তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর একের পর এক সফল সিনেমা ‘সাজন’, ‘বেটা’, ‘খলনায়ক’, ‘হম আপকে হ্যায় কৌন..!’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে।

১৯৯৯ সালে চিকিৎসক ‘শ্রীরাম নেনে’কে বিয়ে করার পর কিছু সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও পরে আবারও পর্দায় ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় এই অভিনেত্রী নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমেও কাজ করছেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার পাওয়া মাধুরী দীক্ষিত ২০০৮ সালে ভারতের পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। আজও তিনি বলিউডে অভিনয়, নাচ ও সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।