বিশ্বমঞ্চে জার্মানির টানা তৃতীয় ব্যর্থতার পর দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন খোদ কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, জার্মানি এখন আর বিশ্ব ফুটবলের ‘প্রথম সারির দল’ নয়। তবে এই চরম ভরাডুবির পরও তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না এবং দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে বহাল থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানি দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে কোনো নকআউট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। কিন্তু প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের সামনে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় পুরোপুরি ভেঙে পড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টেমাদে এবং জোনাথন তাহ পেনাল্টি মিস করলে মাঠ ছাড়তে হয় জার্মানিকে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে না পারার যে আক্ষেপ, তা এবারও ঘুচল না দলটির।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হতাশ নাগেলসম্যান বলেন, প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মান ফুটবলের ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় না। যেহেতু এটি টানা তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘটনা, তাই মানতেই হবে জার্মানি আর বিশ্বসেরা দলগুলোর কাতারে নেই। ২০২৩ সাল থেকে দলের দায়িত্ব সামলানো ৩৮ বছর বয়সী এই কোচের চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ড্রেসিংরুমে ফেরার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদিকদের পক্ষ থেকে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন ধেয়ে আসে।
সমর্থকদের একটি বড় অংশ যে তার বিদায় চাইছে, সেটি ভালো করেই জানেন এই সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ বস। তবে কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ‘পালিয়ে যাওয়ার পাত্র’ নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। নাগেলসম্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) যদি তার ওপর ভরসা রাখে, তবে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। আজ যদি জার্মানিতে কোনো সমীক্ষা চালানো হয়, তবে তার পক্ষে ইতিবাচক সাড়া আসবে না—এটি জানা সত্ত্বেও নিজের যুক্তিগুলো ফুটবল বোর্ডের সামনে তুলে ধরে দলকে পুনর্গঠন করতে চান এই কোচ।





