মেসি-রোনালদোকে ‘অনুপ্রেরণা’ বললেন কেইন, জানালেন আড়ালে করা কঠোর পরিশ্রমের কথা

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর এই বাঁচা-মরার ম্যাচে জোড়া গোল করে আরও একবার বড় মঞ্চের আসল নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। একইসঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৩ নম্বরে, যা তাকে বসিয়েছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের চেয়েও উঁচুতে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পেলেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ফুটবলপাড়ায় এখন কেইনকে নিয়ে বন্দনা চলছে। সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন তো তাকে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের কাতারেই রাখছেন। তবে এমন আকাশচুম্বী প্রশংসার মাঝেও নিজের স্বভাবসুলভ নম্রতা ও মাটিতে পা রাখার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেননি বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকার।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হ্যারি কেইন জানান, আড়ালে করা কঠোর পরিশ্রমেরই ফল এটি। ফুটবলপ্রেমীরা মাঠের পারফরম্যান্স দেখলেও এর পেছনে যে অক্লান্ত অনুশীলন, বরফ স্নান ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মতো ছোটখাটো অনেক ত্যাগ লুকিয়ে থাকে, সেটি মনে করিয়ে দেন তিনি। মেসি এবং রোনালদোকে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখর হিসেবে উল্লেখ করে কেইন বলেন, ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে এই কিংবদন্তিরাই আসল অনুপ্রেরণা। নিজের ওপর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রেখে তিনি জানান, পর্দার আড়ালের সেই সব প্রস্তুতিই তাকে মাঠে বড় মুহূর্তগুলোর জন্য তৈরি রাখে, যার প্রমাণ মিলেছে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচেও।

ম্যাচটিতে কঙ্গোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি প্রথমার্ধে দুর্দান্ত কিছু সেভ করে ইংল্যান্ডকে বেশ চেপে ধরেছিলেন। তবে হাল ছাড়েনি থ্রি লায়ন্সরা। কেইনের মতে, ম্যাচটি ছিল দেয়ালে ক্রমাগত আঘাত করে ভাঙার মতো এক চরম ধৈর্যের পরীক্ষা। দলের সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে তারা ম্যাচে এমন ‘নায়কোচিত মুহূর্ত’ তৈরি করার কথা আলোচনা করেছিলেন, যা আজ তার নিজের হাত ধরেই এসেছে। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো, যেখানে প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান কেইন। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটিকে নিজের অন্যতম সেরা ও প্রিয় পারফরম্যান্স হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, গোল করার পর দল যখন শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে, সেই অনুভূতিটা সত্যিই জাদুকরি ও গর্বের।