বিশ্বকাপের মাঝেই টেইলর সুইফট ঝড় উঠবে

খেলাধুলা, বিনোদন আর জাতীয় উৎসবের অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে এই মুহূর্তে এক ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক সংঘাতের সাক্ষী হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। একদিকে চলছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ, অন্যদিকে শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যরকম এক উন্মাদনা। তবে কেবল ফুটবল নয় এই মুহূর্তে বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা নিউইয়র্ককে সামলাতে হচ্ছে একের পর এক বড়মাপের আয়োজন।

সম্প্রতি এনবিএ ফাইনালসে নিউইয়র্ক নিকসের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছিল পুরো শহর। সেই ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের আনন্দ একপর্যায়ে রূপ নেয় ব্যাপক সড়ক বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতায়, যা বিশ্বকাপের চেনা আমেজকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শহরটি প্রস্তুত হচ্ছে আরও এক ত্রিমুখী মহোৎসবের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস তথা ‘ফোর্থ অব জুলাই’ এবং পপ তারকা টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসির রাজকীয় বিয়ের আয়োজন; সবকিছুই ঘটছে একই সময়ে।

আপাতদৃষ্টিতে ফুটবল বিশ্বকাপ বা স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসির বিয়ের কোনো সরাসরি সংযোগ না থাকলেও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে এটি এখন বিনোদন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনকে যেন এক রূপকথার রাজ্যে রূপ দিয়ে বসেছে এই তারকা জুটি। রাজনীতি, খেলাধুলা আর পপ সংস্কৃতির এই ত্রিমুখী মিলন নিউইয়র্ক জুড়ে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত সাংস্কৃতিক সংঘর্ষের, যা চলমান বিশ্বকাপ জ্বরকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিকসের চ্যাম্পিয়নশিপ প্যারেডে ঘটে যাওয়া সেই সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে পুরো নিউইয়র্ককে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতিটি বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন একটি ব্যাপক ও সুসংহত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ প্রস্তুতির রূপরেখা প্রকাশ করেন তিনি।

মেয়র মামদানি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিউইয়র্কে বাড়তি সতর্কতাবস্থা জারি রাখা হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উৎসবমুখর দিনগুলোতে শহরকে সুরক্ষিত রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শহরের পাঁচটি বরো বা অঞ্চলেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যারা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে টানা ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ আশ্বস্ত করেছেন, চলমান ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আগে থেকে নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেই আসন্ন দিনগুলোর উৎসবের জন্য এই অতিরিক্ত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।