‘টাকা নেই, সুতরাং অসুস্থ হওয়া যাবে না’

আজকের দিনে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এক বৈশ্বিক তারকা, যার গান ও অভিনয়ে বুঁদ হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। তবে সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না তার জন্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই গায়ক ও অভিনেতা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর আর্থিক টানাপোড়েন এবং জীবন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে গিয়েছিল, তা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে কীভাবে মাত্র পাঁচ-দশ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বিয়েবাড়ি বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে বেড়াতেন, আজ সেই ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।

‘কিউ উইথ টম পাওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ জানান, জীবনের এক কঠিন সময়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বেঁচে থাকার জন্য টাকাপয়সা কতটা জরুরি। নিজের পারিবারিক পটভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা একটি অতি সাধারণ এবং দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলেন, যেখানে অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মতো টাকাও থাকত না। তাই তাদের মনে সব সময় একটা ভয় কাজ করত— টাকা নেই, সুতরাং অসুস্থ হওয়া যাবে না। এই অনটনই তাকে উপার্জনের পথে নামতে বাধ্য করে। ২০০২ সালে তার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পর কয়েকজন ব্যক্তি একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য তাকে বুক করতে আসেন। তখন পারিশ্রমিকের টাকা হাতে পেয়ে দিলজিৎ বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই সংগীতের জগৎটাই হতে যাচ্ছে তার ভাগ্যবদলের চাবিকাঠি। এরপর থেকে দিন-রাত এক করে যেখানেই ডাক পেয়েছেন, ছুটে গেছেন তিনি। ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার টাকা— যে যা দিতে চেয়েছে, তাতেই রাজি হয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে কাউকে কখনো ‘না’ বলার সুযোগ ছিল না তার।

বর্তমানে বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই শিল্পী সম্প্রতি ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ চলচ্চিত্রে নাসিরুদ্দিন শাহ, ভেদাং রায়না এবং শর্বরীর মতো তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন।

তবে ক্যারিয়ারের এই সুসময়েও সম্প্রতি কিছুটা বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। গত এপ্রিল মাসে মুক্তি পাওয়া তার ‘অ্যারোমা’ গানের একটি লাইনের শব্দচয়ন নিয়ে জুনের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে কুইয়ার কমিউনিটির বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও শ্রোতা গানটির কথা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন এবং দিলজিতের মতো একজন সংবেদনশীল শিল্পীর কাছ থেকে এমন শব্দ আশা করেননি বলে হতাশা প্রকাশ করেন। তবে এই সাময়িক বিতর্ক ছাপিয়ে দিলজিতের এই অকপট ও বিনয়ী স্বীকারোক্তি আরও একবার প্রমাণ করল, মাটি থেকে উঠে আসা শিল্পীরা জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে কখনো ভুলে যান না।

সূত্র: এনডিটিভি