যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকি ও আগ্রাসী মনোভাবের পরিবেশে কোনোভাবেই চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোনো চাপের মুখে নির্ধারিত হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হুমকি ও উসকানি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা হবে না।
’ লাখো ইরানি নাগরিকের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘লাখো গর্বিত ইরানি জনতা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের হুমকিতে ভীত নয়।’ একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিজেদের করা স্বাক্ষরের প্রতি অন্তত সম্মান দেখান।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত বক্তব্যের জের ধরে এসেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করব।’
ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক দাবি করে বলেন, ‘আমরা চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সবকটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি এবং তাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারি। তাদের এখন কোনো অর্থ নেই, আমরাও তাদের কোনো অর্থ দিইনি।’
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সরাসরি পাল্টাপাল্টি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যে ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির ফলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা ও ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পথ আরও বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।





