মার্কিন নীতি ব্যর্থ, বিশ্বমঞ্চে ইরান এখন এক বড় শক্তি: অস্ট্রিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাসের অধিকারী ইরান বর্তমান বহুমেরুকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অন্যতম প্রধান একটি শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তিশালী অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন গভীর উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারিন নাইসল।

সাক্ষাৎকারে নাইসল উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সামরিক চাপ ও আগ্রাসনের মুখেও ইরান যেভাবে নিজের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং অসাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে, তা বিশ্বরাজনীতিতে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরানকে কাবু করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের যৌথ প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা এবং নানামুখী রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের মূল রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।

সাবেক এই অস্ট্রিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতেছে বলে যে দাবি করে, তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বরং এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।

নাইসল আরও যোগ করেন, মার্কিনীদের যুদ্ধজয়ের বড় বড় দাবির বিপরীতে মূল বাস্তবতা হলো—হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত অবরুদ্ধ দশায় রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনি এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পণ্য রপ্তানি বাণিজ্যও তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বাস্তব উদাহরণই প্রমাণ করে যে, ইরান কেবল সামরিক কিংবা রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলাতেই সফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদেরকে একটি প্রভাবশালী ও অপরিহার্য শক্তি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।