২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচে লামিন ইয়ামালের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গ্যালারিতে থাকা তার মাত্র তিন বছর বয়সী ভাই কেইন। সোফাই স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখনই গ্যালারির দিকে ঘুরেছে, তখনই ছোট্ট কেইনের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমিভরা অভিব্যক্তি দর্শকদের নজর কেড়েছে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার ভিডিও।
এটি চলতি বিশ্বকাপে কেইনের প্রথম ভাইরাল হওয়া নয়। এর আগে শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পরও তার উচ্ছ্বাসের ভিডিও ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যামেরা নিজের দিকে তাক করা বুঝতে পেরে সে হাত নাড়ার পাশাপাশি মজার ছলে জিভ বের করে ভেংচি কাটতে থাকে। তার এই নিষ্পাপ ও চঞ্চল আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইন এবং বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল একই মা শিলা ইবানার সন্তান। দুই ভাইয়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছর হলেও তাদের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা ইয়ামাল আগেও বলেছেন, তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান এই ভেবে যে, তার ছোট ভাই সেই সুন্দর শৈশব পাচ্ছে, যা তিনি কখনো পাননি।
ইয়ামাল একবার বলেছিলেন, “আমি এমন এক ফ্ল্যাটে বড় হয়েছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমার মাকে সুখী দেখি, আর আমার ভাই সেই শৈশব পাচ্ছে যা আমি কখনো পাইনি। এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।”
বিশ্বকাপে ভাইরাল হওয়ার আগেই কেইন বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখ। ক্যাম্প ন্যুতে ভাইয়ের খেলা দেখতে নিয়মিত উপস্থিত থাকে সে। প্যারিসে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ইয়ামালের সঙ্গে রেড কার্পেটে দেখা যায় তাকে। সেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফুটবল নিয়ে খেলতে খেলতেই আলোকচিত্রীদের দৃষ্টি কাড়ে এই খুদে। এছাড়া বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপন কিংবা ইয়ামালের টিকটক ভিডিওতেও নিয়মিত দেখা যায় তাকে।
আগামী সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের বড় ভরসা থাকবেন লামিন ইয়ামাল। আর গ্যালারিতে তাকে উৎসাহ দিতে প্রস্তুত থাকবে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য কেইনও।





