মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবার হুমকি দিলেন ইংল্যান্ডের জো কোল

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের লড়াই জমে উঠেছে। আগামী বুধবার আটলান্টায় হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সাবেক তারকাদের মধ্যে শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। কেউ কেউ যখন আর্জেন্টিনার শক্তিতে চাপ অনুভব করছেন, তখন চেলসি ও লিভারপুলের সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার জো কোলের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার একমাত্র উপায় হলো লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা, যাকে তিনি ‘ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া’র শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।

একটি নেটফ্লিক্স স্পোর্টস অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মাইকা রিচার্ডসের সাথে আড্ডায় বসেছিলেন জো কোল। আলোচনার একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রসঙ্গটি উঠলে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই তারকা বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের তাকে (মেসিকে) ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা ওকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি, এটা শতভাগ নিশ্চিত।”

জো কোলের এমন অতি-আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে অবশ্য প্যানেলের বাকি সদস্যরা পুরোপুরি সায় দিতে পারেননি। রোজারিওর এই জাদুকর যদি সেদিন নিজের চেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন, তবে ইংল্যান্ডের কপালে দুঃখ আছে—এমন আশঙ্কায় লিনেকার-শিয়ারাররা কোলকে একটু থামানোর চেষ্টা করে বলেন, “এমন কথা এখনই বলো না, এটা বিশ্বকাপের পরে বলা যাবে।” তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে কোল দ্বিগুণ জোর দিয়ে বলেন, “আমি এখনই বলছি, আমরাই এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে যেতে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে সাবেক ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস দাবি করেন, আর্জেন্টিনাকে আসর থেকে ছিটকে দিতে হলে থমাস টুখেলের শিষ্যদের ধারণার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আলবিসেলেস্তে খেলোয়াড়রা অত্যন্ত ‘ধূর্ত এবং বিজয়ী মানসিকতার’। তবে থমাস টুখেলের দলের শক্তির ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার শক্তির সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার মতো যথেষ্ট গতি আমাদের আছে এবং আমরাই ওদের হারাতে যাচ্ছি। আমি এটা মন থেকে টের পাচ্ছি।”

মেসির বিরুদ্ধে কোলের এমন কড়া মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। কারণ এর আগে তিনি বহুবার প্রকাশ্যে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলেন। কোল একবার বলেছিলেন, “আমার মনে হয় রোনালদো হয়তো রাতে ঘুমানোর সময় ভাবেন, ‘ইস, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতাম।’ মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে ফুটবল দুনিয়ায় সবকিছু অর্জন করেছে এবং শান্তিতে ঘুমাতে পারে।”

এদিকে, এই ঐতিহাসিক মহারণের আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি আরেক ব্রিটিশ ফুটবল পণ্ডিত গ্যারি নেভিল। স্কাই বেটের এই ধারাভাষ্যকার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের রক্ষণভাগকে বিশ্বের ‘সেরা-বাজে’ সেন্ট্রাল ব্যাক জুটি আখ্যা দিয়ে বলেন, “ওদের দেখে মনে হবে প্রতি ম্যাচে নিজেদের ভুলে একটা করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখবেন ওরা গোল করছে, প্রতিটি হেডার জিতছে এবং মাঠের সব জায়গায় হাজির হয়ে যাচ্ছে। ওরা যখন আর্জেন্টিনার ওই আকাশী-সাদা জার্সিটা গায়ে জড়ায়, তখন তাদের মধ্যে অন্যরকম কিছু ঘটে। কিছু কিছু মুহূর্তে ওরা যেমন অনন্য সাধারণ খেলে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই আবার অতি চমৎকার থেকে একবারে হাস্যকর পর্যায়ে নেমে যায়।”