২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন শিরোপা কার হাতে উঠবে-এ নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নানা প্রতীকী ‘ভবিষ্যদ্বাণী’।
পেরুর আধ্যাত্মিক শামন, ব্রাজিলের একটি জাগুয়ার এবং থাইল্যান্ডের একটি সিংহ-তিন পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে। কেউ দেখছেন আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা, আবার কেউ এগিয়ে রাখছেন স্পেনকে।
যদিও এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও বিশ্বকাপের আবহে তা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপজুড়ে নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। ঘানার তান্ত্রিক, জার্মানির এক অর্থনীতিবিদ কিংবা জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজ দ্য সিম্পসনস-এর পূর্বাভাসও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবুও ফাইনালকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে পেরুর একদল আধ্যাত্মিক শামন। তাদের দাবি, কঠিন লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা। তাদের বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে।
পেরুর শামন হুয়ান দে দিয়োস গার্সিয়া বলেন, আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে তারা এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন যে, আর্জেন্টিনাই শিরোপা ধরে রাখবে। তার ভাষায়, স্পেন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর বায়ো পার্কে ‘পটি’ নামের একটি জাগুয়ারের সামনে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকাবাহী দুটি বক্স রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর প্রাণীটি আর্জেন্টিনার পতাকাযুক্ত বক্সটি বেছে নেয়। পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, এটি প্রতীকীভাবে আর্জেন্টিনাকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচনের ইঙ্গিত।
তবে থাইল্যান্ডের খন কায়েন চিড়িয়াখানার ‘বয়’ নামের একটি সিংহ দিয়েছে ভিন্ন বার্তা। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকার নিচে রাখা খাবারের মধ্যে তিন দফা পরীক্ষায় দুইবার স্পেনের পতাকার নিচের খাবার বেছে নেয় সিংহটি। সেই হিসেবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রতীকী পূর্বাভাস অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপ জিতবে স্পেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সেমিফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার জয়ও আগে থেকেই একই পদ্ধতিতে ‘অনুমান’ করেছিল সিংহটি, যা পরে বাস্তবে মিলেছে।
তবে চিড়িয়াখানার পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুন স্পষ্ট করে বলেছেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ম্যাচের ফল নির্ধারণ বা জুয়া-বাজি উৎসাহিত করা নয়। প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
প্রাণীদের মাধ্যমে ম্যাচের ফল অনুমানের বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’ ধারাবাহিকভাবে সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে হাতি, গরিলা, জেব্রা, হাঙরসহ নানা প্রাণীকে দিয়ে প্রতীকী পূর্বাভাস দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আয়োজনের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; এগুলো মূলত বিনোদনের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
সবশেষে শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঠের লড়াইয়েই। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের পরই জানা যাবে, আধ্যাত্মিক শামন ও জাগুয়ারের পূর্বাভাস সত্যি হয়, নাকি থাইল্যান্ডের সিংহের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।





