তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াত নেতা কারাগারে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজের কথা বলে নিজ বসতঘরে নিয়ে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান। এর আগে, শুক্রবার সকালে উপজেলার মাধবখালি ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেফতার করা হয়।

জামায়াত নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামীর সভাপতি। বাড়ির পাশে একটি ফার্মেসির দোকানে একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন তিনি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারের উত্তর পাশে জামায়েত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মাহবুবের একটি ফার্মেসি আছে। সেখানে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওষুধ দিয়ে থাকেন এবং স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন রকমের তাবিজ দিয়ে ফকিরের কাজ করেন। মামলার বাদী ওই নারী ফার্মেসি থেকে প্রায় সময় ওষুধ ক্রয় করেন। এই সুবাদে তার (নারীর) ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর তিনি চেয়ে নেন। এরপর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার কাছ থেকে তদবির নিতেন।

ঘটনার আগে ওই নারী তার ভাইয়ের মেয়ের (বয়স ১১) পড়াশোনা করার জন্য তার কাছে তদবিরের কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার তদবির আনার জন্য ওই নারী তার ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসিতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে না পেয়ে ফোন করলে তিনি জানান বাড়িতে আছেন। এরপর তদবির আনার জন্য ওই নারীকে তাকে বাড়িতে যেতে বলেন। এরপর ওই নারী বাড়িতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন রকমের কাজ দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। তার স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য কাউকে বসতঘরে দেখতে না পেয়ে ওই নারী বের হয়ে আসতে চাইলে তাকে টানা-হেঁচড়া করে তার পরিহিত হিজাব ও বোরখা খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা চালান। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান মাহবুবের বাড়িতে অনেকগুলো ঘর। স্ত্রী-সন্তান ঘরে না থাকায় সন্ধ্যার পরে এক নারীকে নিয়ে আসায় বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। আমরা গিয়ে তাদেরকে ঘরের মধ্যে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর ওই নারী বলেন, ‘উনি আমাকে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এখানে এনেছেন। এরপর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।’

মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটির বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে এক সন্তানের জননী ওই নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। একমাত্র আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেফতার করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।