গণমাধ্যম হবে জনগণ ও রাষ্ট্রের, কোনো ব্যক্তির নয়: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসন, পুলিশসহ সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে দিনাজপুরের হিলি গোডাউন মোড়ে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে গণমাধ্যম হবে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ এবং রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একসময় ক্ষমতায় ছিল, এখন নেই। বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকলেও ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলও চিরস্থায়ী নয়। তবে বাংলাদেশের জনগণ ও সার্বভৌম রাষ্ট্র চিরস্থায়ী। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য। সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যে তিনি দেশের অতীত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।