রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি এখন শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যাতে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য সংবিধানেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। একই সঙ্গে শুরু হবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
স্পিকারই পালন করবেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদ ছাড়তে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে নির্বাচন
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণ—সব ধাপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করবে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল প্রকাশ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে তিনি এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি হতে যেসব যোগ্যতা লাগবে
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে—
বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে।
জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মনোনয়ন কীভাবে হবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সদস্যকে সমর্থক হতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবেন না।
মনোনয়নপত্র জমা পড়ার পর নির্বাচন কমিশন সেগুলো যাচাই করবে। বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।
কারা ভোট দেন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না। এ নির্বাচনে ভোটার কেবল জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা। অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হয় দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি।
ভোট হবে, নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন
যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
অন্যদিকে যাচাই-বাছাই শেষে যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিনও এভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান নির্ধারিত এই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।





