সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষক প্রশিক্ষণের আগে বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আগে পদায়ন সম্পন্ন করে নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম সংযুক্ত করা হলে প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখনো তাদের যোগদান সম্পন্ন হয়নি। এদিকে আগে প্রশিক্ষণ এবং পরে পদায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নিয়ম অনুযায়ী আগে বিদ্যালয়ে পদায়ন এবং পরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাষ্য, পদায়ন সম্পন্ন না হলে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। প্রশিক্ষণের আগে পদায়ন না হলে বেতন কার্যক্রম শুরু করতেও আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, যা নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে।
তারা আরও বলেন, প্রশিক্ষণের বিরোধিতা নয়, বরং দক্ষ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তারা উপলব্ধি করেন। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগের প্রতিও তারা সমর্থন জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত পদায়ন করা হলে একদিকে শিক্ষক সংকট কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান পাবে।
যোগদান বিলম্বিত হওয়ায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যথাসময়ে অব্যাহত রেখে তার আগেই বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন করা এবং নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম সংযুক্ত করা হলে সরকারের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তাও দূর হবে।





