যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমেছে। কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৮২ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৯ ডলারে। টানা তিন সপ্তাহ দরবৃদ্ধির পর দুই ধরনের তেলই এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিশ্চিত করেছেন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িকভাবে ইরানে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএনজি (ING)-সহ বিশ্ব আর্থিক বাজার সংশ্লিষ্টরা এটিকে উত্তেজনা প্রশমনের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
তবে তেলের দাম কমলেও হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে নৌযান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। বিশ্ববাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথে ঝুঁকি এবং একই সাথে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী বাধা সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।





