ক্যামেরার টান আজও অটুট, মঞ্চ-সিনেমা নিয়েই এগোতে চান নওশাবা

অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজ, নাট্যচর্চা, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং গান—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। ক্যামেরার সামনে কাজ করার প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট থাকলেও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত সহকর্মীর মায়ের চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহেও এগিয়ে এসেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। ক্যানসারে আক্রান্ত এক সহকর্মীর মায়ের চিকিৎসা সহায়তার জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয় নওশাবার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’। ২০১৮ সাল থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

নওশাবা জানান, ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সহায়তার তহবিল গঠনের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, থিয়েটার মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শেখায়, আর সেই শিক্ষার জায়গা থেকেই তারা সহকর্মীর কঠিন সময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

মঞ্চনাটকের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন নওশাবা। তার নির্দেশিত নাটকগুলোতে পরিবেশ রক্ষা, প্লাস্টিক বর্জন ও বৃক্ষরোপণের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি দর্শকদের মাঝে গাছের চারা বিতরণও করেন, যাতে তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ে।

চলচ্চিত্র নির্মাতার খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়েও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দেখছেন উপযুক্ত প্রযোজকের অভাব।

অভিনয়ের পাশাপাশি গান নিয়েও কাজ করতে চান নওশাবা। যদিও নিজের কণ্ঠ নিয়ে তিনি রসিকতা করেন, তবুও থিয়েটারের অভিজ্ঞতা তাকে সঙ্গীতচর্চায়ও উৎসাহ জোগাচ্ছে।

ক্যামেরার সামনে কাজের প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, শুটিং ফ্লোর, লাইট, ক্যামেরা—সবকিছুই তিনি ভীষণ মিস করেন। আগের মতো অভিনয়ের ডাক না পেলেও এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে অভিনয় করতে না পারার কষ্ট রয়েছে। তার ভাষায়, তিনি এখনো ভালো কাজের অপেক্ষায় ‘চাতক পাখির’ মতো তাকিয়ে থাকেন।

অভিনয়জীবনে নুহাশ হুমায়ূনের ‘অন্তরা’ গল্পভিত্তিক কাজ এবং সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-কে নিজের ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে দেখেন নওশাবা। ভবিষ্যতেও মঞ্চ, নাটক, সিনেমা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তিনি।