শৈশবের ক্লাব সান্তোসে আবেগঘন প্রত্যাবর্তনটা দীর্ঘস্থায়ী সুখের গল্প হয়ে উঠছে না নেইমার জুনিয়রের জন্য। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় তার আচরণ, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে সান্তোসের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, এমনকি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর তার চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনাও এখন অনেকটাই ফিকে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সাম্প্রতিক আচরণে ক্লাবের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। কোচিং স্টাফ, সতীর্থ ফুটবলার থেকে শুরু করে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট-সব পক্ষের সঙ্গেই তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দৈনন্দিন অনুশীলনে তাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্বার্থকেন্দ্রিক মনোভাব নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেক সতীর্থ।
মে মাসে অনুশীলনের সময় রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই ঘটনার পর নেইমারের নেতৃত্ব ও অধিনায়কত্বের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে ক্লাবের ভেতরে।
এরপর কোপা সুদামেরিকানা চলাকালে নতুন বিতর্কে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। দল যখন ভেনিজুয়েলায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নেইমারকে দেখা যায় সাও পাওলোর একটি পোকার টুর্নামেন্টে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। তবে চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে গোল করার পর তাস বিলির ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পেশাদার ফুটবলের চাপ ও ক্লাবের দৈনন্দিন পরিবেশে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন নেইমার। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার কথাও ভাবছেন। তবে তার বাবা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির দায়বদ্ধতার কারণে আপাতত খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে নেইমার ও তার বাবা দুজনই সান্তোসের অবকাঠামো এবং দল গঠনের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। যদিও অবকাঠামো উন্নয়নে নেইমার নিজেই অর্থায়ন করেছেন, তবুও ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের।
শুধু সাংগঠনিক নয়, আর্থিক দিক থেকেও সমস্যায় রয়েছে সান্তোস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারের কাছে ক্লাবের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি। একই সঙ্গে কয়েক মাস ধরে খেলোয়াড়দের ইমেজ রাইটস বাবদ অর্থও পরিশোধ করা হয়নি।
এর মধ্যেই চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ড্রেসিংরুমে তরুণ দুই সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বনটেম্পো ও জোয়াও অ্যানানিয়াসকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে নেইমারের বিরুদ্ধে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সেই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, সান্তোসে নেইমারের দ্বিতীয় অধ্যায় এখন আবেগের চেয়ে বিতর্কেই বেশি আলোচিত। মাঠের ফল, ক্লাবের আর্থিক সংকট এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন-সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে আরও!





