হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এগুলো হতে পারে স্ট্রোকের সংকেত। স্ট্রোক এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি স্থায়ী পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করা। সহজে মনে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় ‘FAST’ পদ্ধতি। F (Face) অর্থাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, A (Arm) অর্থাৎ হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, S (Speech) অর্থাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা এবং T (Time) অর্থাৎ দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
স্ট্রোক হলে প্রথমেই যা করবেন
স্ট্রোকের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীকে নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে এবং মাথা সামান্য উঁচুতে রাখতে হবে। আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিতে হবে, যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
রোগীর সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন এবং কখন থেকে সমস্যার শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখুন। চিকিৎসকের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্ট্রোকের ধরন ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সময়ের হিসাব বড় ভূমিকা রাখে।
যা করা যাবে না
স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোর করে পানি, খাবার বা ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ অনেক সময় রোগীর গিলতে সমস্যা হতে পারে, এতে খাবার বা পানি শ্বাসনালিতে ঢুকে বিপদ তৈরি করতে পারে। এছাড়া নিজের মতো করে কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা বা ওষুধ প্রয়োগ করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার চাবিকাঠি
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য স্ট্রোকের লক্ষণগুলো জানা এবং জরুরি সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।





