মধ্য রাশিয়ায় কিয়েভের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

গত কয়েক মাস ধরেই রাশিয়ায় দূরপাল্লার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। একের পর এক রুশ তৈল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা হচ্ছে। এবার ফের রাশিয়ায় জোরালো হামলা চালাল ইউক্রেন। মধ্য রাশিয়ার তাতারস্টানে এ হামলা চালায় ইউক্রেন। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে এটি কিভের অন্যতম বড় আক্রমণ বলে দাবি করা হচ্ছে। হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। জখম হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৭৫ জন।

সোমবার সকালে তাতারস্টানের নিজনেকামস্কে ড্রোন হামলা করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। মধ্য রাশিয়ার অন্যতম বড় এই শিল্পশহরে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের বাস। এখানে রয়েছে দু’টি তৈল শোধনাগার এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা। সোমবার ভোর থেকেই তাতারস্তান লক্ষ্য করে দূরপাল্লার আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেনের বাহিনী।

কিভের দাবি, হামলায় নিজনেকামস্কের তানেকো তৈল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করেননি। গত কয়েক মাস ধরেই আক্রমণের ঝাঁঝ বৃদ্ধি করেছে কিভ। প্রায় প্রতিদিনই দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে নিশানা করছে রাশিয়ার তৈল শোধনাগারগুলিতে। ধারাবাহিক এই হামলায় ধাক্কা খেয়েছে রুশ তেলের অভ্যন্তরীণ বাজার। দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এ সবের মধ্যে সোমবার ফের জোরালো হামলা চালাল ইউক্রেন বাহিনী। এ বারও ফের দূরপাল্লার আক্রমণ। রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার পূর্বে নিজনেকামস্কে শহরে আছড়ে পড়ে ড্রোন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রায় ২০০০ কিলোমিটার ভেতরেও বেশ কয়েক বার হামলা চালিয়েছে কিভ।

তাতারস্তানের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও ৭৫ জন। সোমবারের হামলার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলিতে তৈল শোধনাগারের কাছে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তারা ৪৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে কতগুলি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তা জানায়নি রুশ বাহিনী। অন্য দিকে রাশিয়াও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনে। সোমবার উত্তর-পূর্ব খারকিভের একটি গ্রামে আছড়ে পড়েছে রুশ গোলা। হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অন্তত পাঁচ জন গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আনন্দবাজার