দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা ও এর সদস্যদের সাধারণ জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সংসদ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থনে বিলটি অনুমোদিত হয়।
নতুন এই আইনি কাঠামোর অধীনে যেসব প্রাক্তন জঙ্গি সরাসরি কোনো অপরাধ বা সহিংসতায় জড়িত ছিল না, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে। এ ছাড়া শুধু পিকেকে-র সদস্য হওয়ার অপরাধে যারা কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন, তাদের সাজা স্থগিত করা হবে। এর ফলে সশস্ত্র পথ ছেড়ে আসা হাজার হাজার সদস্যের সমাজে পুনর্বাসনের পথ সুগম হলো। তুরস্কের ৬০০ আসনের আইনসভায় ৪৬৮টি বিপুল ভোটে বিলটি পাস হয়। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, জাতীয়তাবাদী জোটসঙ্গী এমএইচপি ও কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টি—রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর এই দলগুলো বিলে যৌথ সমর্থন দেয়।
দীর্ঘ চার দশকের সংঘাত নিরসনে এটিই আঙ্কারার নেওয়া সবচেয়ে বড় আইনি পদক্ষেপ, যার সূচনা ঘটেছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতীয়তাবাদী নেতা দেভলেত বাহচেলির আহ্বানে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯৯৯ সাল থেকে কারারুদ্ধ পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওকালান সংগঠন নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানালে মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘোষণা করে এবং জুলাই মাসে উত্তর ইরাকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিকেকে যোদ্ধারা অস্ত্র পুড়িয়ে ফেলে এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ দেয়।
১৯৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ধ্বস নেমে আসে। তুর্কি সরকার এই বিল পাসকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গড়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তির জন্য রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিতসহ আরো বিস্তৃত আইনি সংস্কার প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স





