দেশে হাতির সংখ্যা কমছে, বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত। আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি রক্ষায় সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বনকর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী, তরুণ ও গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়। শুধু সরকারি উদ্যোগে হাতি সংরক্ষণ সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে এ উদ্যোগ কখনোই টেকসই হবে না।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতি ছিল ২৬৮টি, পরিযায়ী ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। হাতির বর্তমান সংখ্যা ও পরিস্থিতি জানতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন করে জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতি সংরক্ষণে বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২৭) প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা দেয়, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে কাজ করছে।
ক্ষতিপূরণের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত হাতির আক্রমণে নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।





