আগস্টের ১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১৩৯ কোটি ডলার

প্রবাসী আয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগস্ট মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে ১৩৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা টাকার অংকে ১৭ হাজার ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু ১১ আগস্ট একদিনে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। ফলে মাসের বাকি সময়েও প্রবাহের গতি ধরে রাখা গেলে আগস্টে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাত্র ৪২ দিনের এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশে প্রায় ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। আগের বছরের জুলাইয়ে এসেছিল প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

এর ফলে আগস্টের প্রথম ১১ দিনের প্রবাহ যোগ করেই অর্থবছরের প্রথম ৪২ দিনে রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আগের অর্থবছরের শক্তিশালী ভিত্তিও রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক তথ্যেও দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বেশ কয়েকটি মাসে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। জুনে এসেছে ২.৮১৭ বিলিয়ন, মে মাসে ৩.৪৪৩ বিলিয়ন এবং মার্চে ৩.৭৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বাড়লে আমদানি দায় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে আগস্টের প্রথম ১১ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি—দুটি সূচকই প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করছে।

জুলাই ও আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সের যে গতি দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে নতুন উচ্চতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রবাহের গতি, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার—এসব বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, অর্থবছরের প্রথম ৪২ দিনে ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগস্টের মাত্র ১১ দিনেই ১.৩৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।