আইসক্রিমের ফ্রিজারে ইঁদুরের দৌড়াদৌড়ি!

জীবনযাপনকে আরো সহজ করতে মানুষ এখন অনলাইনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ই-কমার্স ব্যবসা তাই বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় ও জমজমাট। ই-কমার্সের আধুনিক ভার্সন হিসেবে গড়ে উঠেছে কুইক-কমার্স বা কিউ-কমার্স। এরা দ্রুত, মানে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে পণ্য সরবরাহ করে। ভারতে বেশ কিছু জনপ্রিয় কিউ-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্লিনকিট। কিন্তু এবার সেই ব্লিনকিটের একটি স্টোরের আইসক্রিম ফ্রিজারে ইঁদুরের দৌড়াদৌড়ির ছবি কিউ-কমার্সের ওপর মানুষের আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ঘরে বসে যারা কিউ-কমার্সে খাবার অর্ডার করে নিশ্চিন্ত থাকতেন, তারা এখন ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার একদল তরুণ আইসক্রিম কিনতে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কল্যাণের গোদরেজ হিল এলাকার ব্লিনকিটের একটি স্টোরে যায়। প্যাকেজড পণ্যে ঠাসা ফ্রিজারটিতে আইসক্রিম খোঁজার সময় তারা ভেতরে একটি ইঁদুরকে খাবার জিনিসপত্রের পাশেই দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। স্বাস্থ্যের জন্য এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা বুঝতে পেরে তারা সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে এর ভিডিও রেকর্ড করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রাহকরা আশা করেন যে এই প্ল্যাটফর্মগুলো খাবার সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যবিধির উচ্চ মান বজায় রাখবে। তবে ইঁদুরের ভিডিও সেই মানদণ্ড বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইঁদুরের ভিডিওটি আলোচনায় আসার পর মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন-এফডিএ তাৎক্ষণিকভাবে স্টোরটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই স্টোর থেকে কোনো ধরনের খাদ্য সামগ্রী বিক্রি, সরবরাহ বা ব্যবসা পরিচালনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

মহারাষ্ট্র এফডিএ রাজ্যজুড়ে কিউ-কমার্স এবং অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে। এ অভিযানের মধ্যেই ব্লিনকিটের মত পরিচিত কিউ-কমার্স স্টোরের আইসক্রিমের ফ্রিজে ইঁদুরের দৌড়াদৌড়ির ঘটনা মানুষের উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। চলমান ‍বিশেষ অভিযানে মহারাষ্ট্র এফডিএ ব্লিনকিট, জেপ্টো এবং ইনস্টামার্ট-এর মত কিউ-কমার্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে। এফডিএ কর্মকর্তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ, বিক্রি ও সরবরাহের সাথে জড়িত ৮৬টি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালান এবং সেখানে একাধিক খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পান। স্থগিত হওয়া ১৪টি লাইসেন্সের মধ্যে ৫টি ব্লিনকিট, ৫টি জেপ্টো এবং ২টি ইনস্টামার্টের সাথে যুক্ত ছিল।

এফডিএ-র নজরদারিতে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকার একটি ব্লিনকিট-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা সেখানে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হিমায়িত পণ্যের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি, খোলা খাবার রাখার জায়গায় অসুরক্ষিত লাইটিং ফিক্সচার এবং অত্যন্ত নিম্নমানের পরিচ্ছন্নতা দেখতে পান। কর্মকর্তারা সেখানে তেলাপোকার উপদ্রবও দেখতে পান। এ ছাড়া ছাদ ও মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং খাবারগুলো সঠিক নিয়মে আলাদা করে রাখা হচ্ছিল না।

মালাড ওয়েস্টের আরেকটি ব্লিনকিট-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরিদর্শকরা একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিত করেন। কর্মকর্তারা দেখতে পান যে সেখানকার চিলার রুমটি ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চলছিল, যা নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রায় ৪০ জন ফুড হ্যান্ডলারের মেডিকেল পরীক্ষার রেকর্ড দেখাতে ব্যর্থ হয়। বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্লাভস, অ্যাপ্রন এবং হেডগিয়ারের মতো মৌলিক সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে।

মহারাষ্ট্র এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের সাথে আপস করা কোনো বড় ব্র্যান্ডকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।