মেসির চার গোলের ঝড়, মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল মায়ামি

বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। ফুটবলের প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে। বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কার-সব কিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। তবু মাঠে নামলেই যেন নতুন করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে আরও একবার তার সেই ক্ষুধার প্রমাণ মিলল। মেসির দুর্দান্ত চার গোল ও এক অ্যাসিস্টে সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মায়ামির আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল মন্ট্রিল।

মায়ামির গোল উৎসবের শুরুটা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করে ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি।

৩৭ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মন্ট্রিল। এক গোল শোধ করে সমতায় ফেরে দলটি। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতির ঠিক আগে মেসির নেওয়া ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মেসির একক আধিপত্য। ৫২ মিনিটে নিজের স্বভাবসুলভ ড্রিবলিংয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। মন্ট্রিলের রক্ষণভাগ তখন যেন অসহায় দর্শক।

৮০ মিনিটে গোল না করে বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে গোল করান মেসি। এর মাত্র তিন মিনিট পর গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দুর্দান্তভাবে বল ভাসিয়ে জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

ম্যাচ তখন মায়ামির নিয়ন্ত্রণে। ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলটির হয়ে ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শো দূরপাল্লার অসাধারণ শটে আরও একটি গোল করেন। কিন্তু মায়ামির গোলের ক্ষুধা তখনও শেষ হয়নি।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও ফ্রি-কিকের দায়িত্ব নেন মেসি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে পূর্ণ করেন নিজের চতুর্থ গোল। আর তাতেই ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মায়ামি।

রেকর্ড, বয়স কিংবা অর্জন কোনো কিছুই মেসির জয়ের ক্ষুধাকে থামাতে পারেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, মাঠে তার জাদু যেন আরও ধারালো হয়ে উঠছে।

সূত্র : ইএসপিএন