বর্তমান বিশ্বের ‘সবচেয়ে উর্বর নারী’ ৪৪ সন্তানের মা মরিয়ম

উগান্ডার মরিয়াম নাবাতানজিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিশ্বের অন্যতম ‘সবচেয়ে উর্বর নারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রায় ২৫ বছরে তিনি ৩৮ বার গর্ভধারণ করে মোট ৪৪ সন্তানের জন্ম দেন। এর মধ্যে ছিল ছয় জোড়া যমজ, চার সেট ট্রিপলেট এবং তিন সেট কোয়াড্রুপ্লেট, পাশাপাশি দুটি একক সন্তান। তার ছয় সন্তান পরে মারা যায়; ফলে ৩৮ সন্তান জীবিত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়াম ১৯৮০ সালে উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় এবং ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার মা হন—তখন তার যমজ সন্তান জন্মেছিল। তিনি নিজে জানিয়েছিলেন, তার ইচ্ছা ছিল মাত্র ছয়টি সন্তান নেওয়ার; কিন্তু পরপর একাধিকবার যমজ, ট্রিপলেট ও কোয়াড্রুপ্লেট হওয়ার কারণে সন্তানসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

এত বেশি যমজ ও একসঙ্গে একাধিক সন্তান কেন?

চিকিৎসকদের মতে, মারিয়ামের ক্ষেত্রে হাইপারওভুলেশন ছিল—অর্থাৎ একটি মাসিক চক্রে ডিম্বাশয় থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় একাধিক ডিম্বাণু বের হওয়া। একাধিক ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে যমজ বা একসঙ্গে তিন-চারটি সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গাইনোকোলজিস্ট ডা. চার্লস কিগুন্ডুর মতে, মারিয়ামের ডিম্বাশয় অস্বাভাবিকভাবে বড় ছিল এবং তিনি বারবার একাধিক ডিম্বাণু উৎপন্ন করতেন। তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে বারবার ট্রিপলেট বা কোয়াড্রুপ্লেট হওয়া অত্যন্ত বিরল।

কেন আরও সন্তান হওয়া বন্ধ করা যায়নি?

কয়েকবার সন্তান হওয়ার পর মারিয়াম আর সন্তান চাননি এবং চিকিৎসকের সাহায্য নেন। কিন্তু তার বড় ডিম্বাশয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য জটিলতার আশঙ্কায় কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকেরা সতর্ক ছিলেন বলে তিনি পরে জানান।

শেষ সন্তান জন্মের পর তার টিউবাল লাইগেশন করা হয়, যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা হয়।

একাই বিশাল পরিবার সামলানো

২০১৫ সালে তার স্বামী পরিবার ছেড়ে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মারিয়ামকে একাই এত বড় পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। সংসার চালাতে তিনি কৃষিকাজ, দর্জির কাজ, চুল কাটার কাজ, ভেষজ ওষুধ বিক্রি এবং অনুষ্ঠান সাজানোর মতো নানা কাজ করেছেন।

পরিবারের খাবারের জন্য কোনো কোনো সময় প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি ভুট্টার আটা প্রয়োজন হতো। বড় সন্তানরাও রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ছোটদের দেখাশোনায় মাকে সাহায্য করত।

শুধু সন্তানসংখ্যার গল্প নয়

প্রতিবেদনটি বলছে, মারিয়ামের গল্প শুধু ৪৪ সন্তান জন্ম দেওয়ার বিস্ময়কর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিশুবিবাহ, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য, চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং একা একজন মায়ের বিশাল পরিবারকে বড় করার সংগ্রাম। তিনি নিজের সন্তানদের শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ তিনি নিজে সেই সুযোগ পাননি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস