মানহীন অটোরিকশা পাবে না লাইসেন্স

ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার চলাচল শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে কঠোর ও যুগোপযোগী নীতিমালা চূড়ান্তকরণের পথে রয়েছে। যত্রতত্র চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নকশা নির্মাণ, রুট নির্ধারণ, চালকের যোগ্যতা, ফিটনেস এবং কারিগরি মানদণ্ডের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মানহীন অটোরিকশা কোনোভাবেই নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নীতিমালার মূল রূপরেখা অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে রাজধানীতে মোট আটটি জোনে ভাগ করে আটটি আলাদা রঙের পরিচালনা করা হবে। প্রধান সড়ক, মহাসড়ক এবং দ্রুতগতির যানের চলাচলের রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এগুলো কেবল স্থানীয় আবাসিক এলাকা, অলিগলি এবং নির্দিষ্ট ফিডার রোডে (সংযোগ সড়কে) চলাচলের অনুমতি পাবে। অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য চারজন যাত্রী চলাচল করতে পারে এমন অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

পা-চালিত রিকশাকে অটোরিকশায় রূপান্তর করা (ব্যাটারি লাগিয়ে) গাড়িকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা ও চালকের যোগ্যতার বিষয়ে নীতিমালায় কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

চালকের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ চালনা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি যানবাহনের জন্য স্থানীয় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মাধ্যমে নিবন্ধন, দৃশ্যমান নম্বর প্লেট এবং মালিকের তথ্যসংবলিত স্টিকার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মানহীন কোনো বাহন বা কারখানা লাইসেন্স পাবে না। যানবাহনের কারিগরি মান ও নিরাপত্তার জন্য ব্রেক, চাকা এবং বডি তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত গতিরোধ করতে সর্বোচ্চ গতির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি, যত্রতত্র অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে বৈধ চার্জিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎতে চার্জ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে।

এটা আমরা ভেটিং করব এখন। আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরে এক সপ্তাহের মধ্যে বা পরের সপ্তাহেই যত দ্রুত সম্ভব এটা দিয়ে দেব। আইনের আলোকে এই নীতিমালা দিলে ই-রিকশা, ইলেকট্রিক রিকশা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, সরকার নীতিমালা চূড়ান্ত করছে, এটা ভালো দিক। নীতিমালায় থাকলে শহরের যানজট কমে যাবে। সবকিছু একটা নিয়মের মধ্যে আসবে। তিনি বলেন, অটোরিকশা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারিগরি সংস্থার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্কশপে ভিন্ন ভিন্ন নকশা ও আকারে অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো অভিন্ন মানদণ্ড নেই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি প্রোটোটাইপকে ভিত্তি করে এসব যান নির্মাণের বিধান রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার চলাচল শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে কঠোর ও যুগোপযোগী এক পৃথক নীতিমালা চূড়ান্তকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।