সৌদি পাইপলাইনে হামলার পর ইরাকের মাইসানে রাস্তায় ভারী অস্ত্রধারী বাহিনী

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রদেশটির অপারেশনাল কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি। একই সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি মাইসান প্রদেশ থেকেই পরিচালিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি মাইসান অপারেশনাল কমান্ডের কার্যক্রম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই কমান্ডের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সম্ভাব্য হামলাকারীদের ইরানের দিকে পালিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে সীমান্তের বিভিন্ন ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং তারা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে—তা খতিয়ে দেখছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।

হামলার পর মাইসানের বিভিন্ন সড়কে বিপুলসংখ্যক ভারী অস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

তবে তারা কোনও নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার অংশ হিসেবেও এ মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তার সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
হামলার পর মাইসানে নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত বন্ধ এবং অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্বে পরিবর্তন—সব মিলিয়ে ইরাক সরকার ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে স্পষ্ট হয়েছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং মাইসান থেকে কীভাবে সৌদি আরবের পাইপলাইনকে লক্ষ্য করা হলো, তদন্তের মাধ্যমে এখন সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা