মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিচ্ছে চীনের মুনশট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুনিয়ায় এখন নতুন চমকের নাম চীনের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘মুনশট এআই’। নিজেদের তৈরি ‘কিমি কে৩’ মডেলের অভাবনীয় সাফল্যে ভর করে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের বার্ষিক বিক্রি ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই হংকংয়ের শেয়ারবাজারে (আইপিও) নাম লেখাতে যাচ্ছে মুনশট। এর আগেই ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে তহবিল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা, যা তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘জেড.এআই’-এর বাজারমূল্যের প্রায় সমান।

বিনিয়োগকারীদের তথ্যমতে, গত জুনে মুনশটের বার্ষিক আয়ের হার ছিল ৩০ কোটি ডলার। জুলাইয়ে ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের বিশাল মডেল ‘কিমি কে৩’ বাজারে আসার পর আগস্টেই তা লাফিয়ে ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন এআই মডেলগুলোর চেয়ে এটি অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ গ্রাহক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। তাই বছর শেষে এই আয় দ্বিগুণ করার স্বপ্ন দেখছে বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

বাজারে মুনশটের মূল প্রতিযোগিতা চলছে অ্যানথ্রপিক, জেড.এআই ও মিনিম্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আগস্টে জেড.এআই-এর আয় ছিল ১৬০ কোটি ডলার আর মিনিম্যাক্সের ৮০ কোটি। অবশ্য আয়ের দিক থেকে ওপেনএআই (৪০ বিলিয়ন) বা অ্যানথ্রপিকের (৬৫ বিলিয়ন) মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো অনেকটাই এগিয়ে।

প্রাথমিক সাফল্যের পর মুনশট এখন এশিয়া-ইনফো বা কিংফট ক্লাউডের মতো বড় গ্রাহকদের দিকে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো ক্লাউড সেবাদাতাদের সঙ্গেও তাদের আলোচনা চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান মুনশটের মডেল ব্যবহার করে বছরে ২ কোটি ডলারের বেশি আয় করলে, সেখান থেকে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে মুনশট।

তবে এত সাফল্যের মাঝেও কিছু বিতর্ক পিছু নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক অভিযোগ করেছে, মুনশট গোপনে তাদের ‘ক্লড’ মডেলের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যদিও মুনশটের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।