সড়কে চলে না ভারী যানবাহন

দ্বিতীয় তিস্তা সেতু। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে সেতুটি; যা রংপুর থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে ৫০ কিলোমিটার। কিন্তু সেতুটি এবং এর সংযোগ সড়ক কোনো কাজে আসছে না ব্যবসায়ীদের। মূলত এ সড়ক ও সেতুটি তিস্তা নদীর বালুর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ সড়কের দুুই পাশ ভেঙে যায়। তখন সেতু ও সড়ক রক্ষায় লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার পর এ পর্যন্ত সড়ক ও সেতু রক্ষায় কত টাকা খরচ হয়েছে সে হিসাব দিতে গড়িমসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা খরচের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ওই সড়ক ও সেতুর হিসাব নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে রয়েছে।’ গত এক সপ্তাহে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর এবং লালমনিরহাটের কাকিনায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের মার্চে। সেতুটি চালু হওয়ায় লালমনিরহাট সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধার সঙ্গে গঙ্গাচড়াসহ বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার কমে এসেছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন দূরত্ব কমায় এ সড়ক ব্যবহারে তাঁদের খরচ কম হবে। কিন্তু গত আট বছরে এ সড়কে কোনো ভারী যানবাহন চলেনি। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সেতুটি উদ্বোধনের ৭২ ঘণ্টা আগেই ধসে পড়ে একটি সংযোগ সড়ক। তড়িঘড়ি সংস্কার করে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। সেই শুরু এ পথে যান চলাচলে দুর্ভোগ; যা এখনো চলছে।

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদি বলেন, ‘এ সড়কটি শুরুর ভিত্তিটাই ছিল দুর্বল। পুরো বালুর ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের সময় পাথর-ইট ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। ফলে এ সড়কে ১০ টনের বেশি যানযাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। পাথরের ট্রাক ৩০ থেকে ৩৫ টন মাল বহন করে। ফলে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।’ চলতি বর্ষা মৌসুমে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুরে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে যায়। সেতুরক্ষা বাঁধেও দেখা দেয় ভাঙন। এতে হুমকির মুখে পড়ে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশের পাইলিং দেওয়ার ১৪ লাখ টাকাই নয়ছয় হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুছার অফিসে একাধিক দিন গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটস অ্যাপে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও জবাব দেননি।