এমবাপে-দেম্বেলে দ্বন্দ্বে ফ্রান্স দলে ফাঁটল

ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। বিশেষ করে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে ও তার জাতীয় দলের ঘনিষ্ঠ সতীর্থরা ক্ষুব্ধ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ফ্রান্সের পরবর্তী ম্যাচ সূচির আগে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি দুই তারকার মধ্যে কথা চালাচালির কারণে ফ্রান্স দলের ভেতরের পরিবেশ ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এমবাপে দাবি করেছিলেন, তাকে সবসময় ‘নির্বাচিত একজন’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং ইনজুরির কারণে তার সতীর্থের ‘ক্যারিয়ার ভিন্ন’ ছিল।

এই মন্তব্যের পর দেম্বেলে চুপ করে থাকেননি। ব্রেস্তের বিপক্ষে পিএসজির জয়ের পর তিনিও পাল্টা তোপ দাগান, ‘আমি কখনও নির্বাচিত একজন হিসেবে ছিলাম না। আমি পরিশ্রম করেছিলাম এবং প্যারিসের সঙ্গে চমৎকার বছর পার করার পুরস্কার পেয়েছিলাম।’

লে’কিপ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মন্তব্যগুলোর কারণে দেম্বেলে আর চুপ থাকতে পারেননি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অধিনায়কের বিভিন্ন বক্তব্যে বিরক্ত হলেও জনসমক্ষে নীরব থেকেছেন।

সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষক জেরাম রোথেন ব্যাখ্যা করেছেন, এই পরিস্থিতিতে দেম্বেলে খুবই মর্মাহত। এমবাপের সর্বশেষ মন্তব্যগুলোকে সরাসরি অপমান হিসেবে মনে হয়েছে তার। বর্তমান ক্ষোভের কারণ, দেম্বেলের মনে হয়েছে এমবাপে তার আন্তর্জাতিক সতীর্থদের অবজ্ঞা করছেন।

ক্ষোভের মাত্রা নিয়ে রোথেন আরএমসি স্পোর্ট-কে বলেছেন, ‘দেম্বেলে এটাকে খুব খারাপভাবে নিয়েছেন, এটা নিশ্চিত। কিলিয়ান এমবাপের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। এটা তার কাছে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। কথাগুলো খুবই কঠোর, কিন্তু এভাবেই তিনি এটাকে দেখছেন।’ এই প্রতিক্রিয়ার কারণে এমবাপে পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছেন বলে খবর লে’কিপ-এর।

শুধু দেম্বেলেই হতাশ হয়েছেন তা নয়, জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থও তাদের অধিনায়কের ওপর ধৈর্য হারিয়েছেন। যে একতা একসময় দলকে এগিয়ে নিয়েছিল, তাতেই ধরেছে ফাঁটল। ব্যক্তিগত পুরস্কার ঘিরে সংবাদমাধ্যমের চলমান প্রচারণার কারণে খেলোয়াড়রা বিভ্রান্ত ও বিচ্ছিন্ন বোধ করছেন।

এই বিপজ্জনক বিভক্তি নিয়ে রোথেন যোগ করেছেন, ‘আমি শুনেছি যে ফরাসি দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা তার সমস্ত কথা বুঝতে পারছেন না, যারা এমবাপের দলের চেয়ে দেম্বেলের দলেই বেশি আছেন। এখনও দলটা একই, কিন্তু দৃশ্যত এখন দুটো দল তৈরি হয়েছে।’