সরকারের অনুমোদিত ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’-এ সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই কাঠামো সামরিক-বেসামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এতে উচ্চপদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার তুলনামূলক কমানো হলেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই বর্ধিত বেতন মোট তিনটি ধাপে কার্যকর করা হবে, আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন স্কেলে মূল বেতন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শতকরা হিসেবে বাড়ি ভাড়ার হার কিছুটা কমানো হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি চাকুরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০–৬৫ শতাংশের বদলে ৪০–৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারের ক্ষেত্রে এই হার ৩০–৫০ শতাংশ এবং এর বাইরের এলাকার জন্য ২৫–৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় শতাংশের হার কমলেও সার্বিকভাবে বাড়িভাড়া বাবদ প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও যোগাযোগ খাতে ভাতার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যমান ১,৫০০ টাকার বদলে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য ৪,০০০ টাকা এবং বয়স্ক পেনশনভোগীদের বয়সভেদে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সব কর্মীর জন্যই মোবাইল ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; যেখানে ১ম–৫ম গ্রেড মাসে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেড মাসে ১৫০ টাকা করে পাবেন।
অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতার মধ্যে যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ করে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, উৎসবের ক্ষেত্রে পহেলা বৈশাখের বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাহাড়ি ভাতা, হাওর ও চর এলাকার ভাতা ২০ শতাংশ বহাল থাকলেও সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।





