জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও ল্যান্ডভিত্তিক এলএনজি স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণ, বন্ড অডিটে প্রফেশনাল ফার্ম নিয়োগ, রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার এবং এলডিসি উত্তরণের পর অন্তত পাঁচ বছর বিশেষ নীতিসহায়তা চেয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে এফটিএ-ইপিএ দ্রুত সম্পাদন, কাস্টমস ও কোম্পানি আইন আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কম সুদের ঋণের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তররা বিজিএমইএ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট, কাস্টমস-বন্ডের দীর্ঘসূত্রতা ও এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
এর মধ্যেই নতুন বাজার ও উচ্চমূল্যের পণ্য সম্প্রসারণে আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় ‘বাটেক্সপো ২০২৬’ এবং ২৮-২৯ অক্টোবর হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলছে, জাপানসহ নতুন বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু, স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে জোর দেওয়া হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক রফতানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বাড়লেও গত তিন বছরের তুলনায় প্রকৃত ব্যবসা খুব বেশি বাড়েনি বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তার মতে, রফতানি প্রবৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জ্বালানিসংকটকে শিল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বিজিএমইএ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দ্রুত নতুন এফএসআরইউ স্থাপন, উপকূলীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগে অগ্রাধিকার এবং ১০০-৫০০ পিএসআই বয়লারযুক্ত কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থায়ী ও নিরাপদ আমদানি কার্গো শেড নির্মাণ, বিএনসিসি সংস্কার এবং গাজীপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সরকারি জমি বরাদ্দের দাবিও জানানো হয়েছে।





