যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাজার দর ও নিজস্ব চাহিদার ভিত্তিতে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি, ওয়াশিংটনের এমন একপাক্ষিক পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে নয়া দিল্লি।
সম্প্রতি ইউক্রেন আক্রমণের জেরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি সর্বসম্মত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস হয়। এই বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া ও ইরান থেকে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর শতভাগ (১০০%) পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনটিতে ভারতের নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন বিল পাসের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিষয়টির সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছে। নয়া দিল্লি আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এই ধরণের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটল ধরাবে। নিজ দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারত তার সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত বর্তমানে রুশ জ্বালানি তেলের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর নানান নিষেধাজ্ঞা দিলেও, ভারত সস্তা দামে রাশিয়া থেকে প্রচুর তেল আমদানি করে আসছে। পশ্চিমাদের ধারাবাহিক চাপ সত্ত্বেও নয়া দিল্লি বারবারই বলে এসেছে, বিশাল জনসংখ্যা ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই তারা এই বাণিজ্য বজায় রেখেছে। নতুন মার্কিন আইনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত সরকার এখন থেকে দেশীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।





